এখনও সুযোগ আছে পুজোর ছুটিতে বেরিয়ে পড়ার। বুদ্ধদেব, মহাবীর, অজাতশত্রু, বিম্বিসার, চন্দ্রগুপ্ত, অশোক যে রাজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে, যে রাজ্যে বিশ্বের প্রথম রিপাবলিকের পত্তন হয়, সেই প্রতিবেশী বিহারে পৌঁছেও যাওয়া যায় খুবইসহজে। তাই এ বার গন্তব্য হোক বিহার, বিহারের বুদ্ধগয়া ……….

ভগবান বুদ্ধের স্ট্যাচু

মে মাসে বৌদ্ধ জয়ন্তীর সময় দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন আসেন আসেন এখানে। এমনকি বিদেশ থেকেও বৌদ্ধধর্মালম্বী পর্যটকরা ভিড় করেন এই সময়ে। বোধিবৃক্ষ এর পাশেই মহাবোধি মন্দিরটিতে সারাবছর পর্যটকের ঢল নামে, পাশেই সুজাতা দীঘি। জনশ্রুতি, এই দীঘির জলে স্নান করেই সুজাতা মিষ্টান্ন / পায়েস নিবেদন করেন ভগবান বুদ্ধদেবকে। মন্দিরের পাশে অশ্বত্থ গাছের নীচেই সিদ্ধার্থের বোধিলাভ, যার পাশে তিনশো বছর খ্রিস্টপূর্বাব্দে বালিপাথরের সিংহাসন আর বুদ্ধের স্তূপ তৈরি করেছিলেন সম্রাট অশোক। দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত ওই স্তূপই ছিল বৌদ্ধদের প্রধান আরাধ্য স্থান। তার পর ওখানে শুরু হয় মহাবোধি মন্দির। সপ্তম শতাব্দীতে গুপ্তযুগে শেষ হয় অশ্বত্থ গাছের পূর্ব দিকে মহাবোধি মন্দির তৈরির কাজ। মন্দিরের ভিতরে সোনার জল করা কষ্টিপাথরের ,ভগবান বুদ্ধের বসে থাকার মূর্তি তৈরি করেছিলেন পাল রাজারা। ৪৮ বর্গফুট চৌকো বেসমেন্টের বুকে পিরামিডের মতো উপরের দিকে উঠে গিয়েছে মন্দির ,যাহা লম্বায় যা প্রায় ১৭০ ফুট। দিনের পড়ন্ত আলোয় মহাবোধি মন্দির চত্বরে বসে থাকলে, সত্যিই মন জু়ড়িয়ে যায়। এখন তো ওই মন্দির চত্বর জুড়ে তৈরি হয়েছে ৮০ ফুটের বুদ্ধমূর্তি থেকে শুরু করে অজস্র বৌদ্ধবিহার। চিন, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশ থেকে বুদ্ধগয়ায় তৈরি করা হয়েছে বুদ্ধের বিহার বা মন্দির।

বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দির

সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে বুদ্ধগয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক তীর্থক্ষেত্র। তাই, সারা বছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বৌদ্ধদের আনাগোনা চলে এখানে, সে সময়ে মহাবোধি মন্দিরে বসে ‘প্রার্থনা’র আসর। অনেক জাপানীরই বিশ্বাস, বুদ্ধগয়ার বাসিন্দাদের শরীরে বুদ্ধের অংশ রয়েছে। তাই অনেক জাপানি মহিলাই এখানে এসে বিয়ে করে ফেলেন স্থানীয় ‘গাইড’দের।

এখানে বৌদ্ধ স্থাপত্যের সংগ্রহ দেখার মত , আপনারা পায়ে হাটতে হাটতে বা অটো বা কার ব্যবহার করে দেখে নিতে পারেন :-

  • ৮০ ফুট বুদ্ধের স্ট্যাচু ,
  • তিব্বতের গোলুক-পা সম্প্রদায়ের তিব্বতি মনাস্ট্রি,
  • চিনা বুদ্ধিস্ট মন্দির,
  • প্যাগোডাধর্মী থাই মনাস্ট্রি ও ভুটান মনাস্ট্রি,
  • মহাবোধি মন্দির-বুদ্ধগয়া
  • সুজাতার বাড়ী-বুদ্ধগয়া
  • গ্রেট বুদ্ধ স্ট্যাচু-বুদ্ধগয়া
  • থাই মনেস্ট্রি-বুদ্ধগয়া
  • চাইনিজ মনেস্ট্রি-বুদ্ধগয়া
  • বোধি বৃক্ষ-বুদ্ধগয়া
  • মুচলিন্ডা লেক-বুদ্ধগয়া
  • দুঙ্গেশ্বরী পাহাড়-বুদ্ধগয়া
  • চিন, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশ থেকে বুদ্ধগয়ায় তৈরি করা হয়েছে বুদ্ধের বিহার বা মন্দির।
  • চীনা বুদ্ধিস্ট মন্দির বিপরীতদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম।

১৪-১৬ জানুয়ারি কালচক্র উৎসবেও যাত্রী আসেন নানা জায়গা থেকে। বুদ্ধগয়া ভ্রমণের আদর্শ মরশুম অক্টোবর থেকে মার্চ। তবে গরম এড়িয়ে যেকোন সময়েই চলা যায়।

বোধিবৃক্ষ

বুদ্ধগয়ার প্রধান আকর্ষণ বোধিবৃক্ষ। আজ থেকে প্রায় ২৫৫০ বছর আগে এই গাছের তলায় বসে বোধিলাভ করেন সিদ্ধার্থ গৌতম।

কিভাবে যাবেন : বুদ্ধগয়ার নিকটতম রেলওয়ে জংশন গয়া।

হাওড়া :

  • ১২৩৫৩ লালকুয়া উইকলি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (ছাড়ে সকাল ৮.১৫ পৌঁছায় দুপুর ২.৫০),
  • ১২৩৮১ পূর্বা এক্সপ্রেস (ছাড়ে সকাল ৮.১৫ পৌঁছায় দুপুর ২.৫০),
  • ১২৩০৭ যোধপুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (ছাড়ে রাত ১১.৩০ পৌঁছায় পরদিন সকাল ৬.১৫)।

শিয়ালদহ :

  • আজমীর এক্সপ্রেস (ছাড়ে রাত ১১.২০ পৌঁছায় পরদিন সকাল ৬.২৮)।
  • কলকাতা স্টেশন থেকে গয়া যায় ১২৩৫৭ দুর্গিয়ানা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (ছাড়ে দুপুর ১২.২০ পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬.৩৮)।

গয়া রেলস্টেশনের ঠিক বাইরেটা থেকে শেয়ার অটো, বাস যাচ্ছে বুদ্ধগয়ার দিকে। অটো রিজার্ভ করে বা গাড়ি ভাড়া করেও যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন :

  • ভারত পর্যটনের হোটেল বোধগয়া অশোক, এখানে ভাড়া ১৬০০-৩২০০ টাকা,
  • বিহার পর্যটনের হোটেল সিদ্ধার্থ বিহার, ভাড়া ৭০০-১২০০ টাকা,
  • হোটেল বুদ্ধবিহার ডরমিটরি প্রতি বেড ১৫০ টাকা,
  • হোটেল মহাযান, ভাড়া ১৪০০-৪০০০ টাকা,
  • শান্তি গেস্ট হাউস, ভাড়া ৫০০-১২০০ টাকা,
  • আম্রপালি গেস্ট হাউস, ভাড়া ৫০০-৮০০ টাকা,
  • ওম গেস্ট হাউস, ভাড়া ৫০০-৮০০ টাকা,
  • ওয়েলকাম গেস্ট হাউস, ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা,
 বুদ্ধের মূর্তি