মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়

সুতনু জাতক


ভদন্ত ড. সুমনপ্রিয় ভিক্ষু:

আগামীকাল পবিত্র শ্রাবণী পূর্ণিমা। ০২ আগস্ট ২০২০ ইং, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বাংলা, ২৫৬৪ বুদ্ধাব্দ। পূর্ণিমা আরম্ভ রবিবার রাত ৯ টা ৩১ মি. থেকে সোমবার রাত ৯ টা ১৫ মি. পর্যন্ত।

পাঁচ প্রকার মাতা পিতার উপস্থাপন বা সেবা হয়। সিগালোবাদ সূত্রে বুদ্ধ বলেছেন – গৃহপতি পুত্র ! ভরণ – পোষণ, কর্মসম্পাদন, বংশ প্রথা রক্ষণ, সম্পত্তি লাভের যোগ্যতা অর্জন ও মৃতদের উদ্দেশ্যে পুণ্যদান এই পঞ্চ কৃত্য সম্পাদন উত্তম মঙ্গল। উক্ত পাঁচটি কৃত্য সম্পাদন করবে এই আকাঙ্খায় মাতাপিতা সন্তান কামনা করেন। মহামঙ্গল সূত্রে বলা হয়েছে – মাতা-পিতু উপট্ঠানং, পুত্তদারস্স সঙ্গহো, অনাকুলা চ কম্মন্তা, এতং মঙ্গল মুত্তমং। To support of mother and father, the cherishing of wife and children, to be engaged in peaceful occupation. This is the greatest blessing. অর্থাৎ মাতা – পিতার সেবা করা, স্ত্রী – পুত্রের উপকার করা, নিষ্পাপ ব্যবসা বাণিজ্য করা, উত্তম মঙ্গল।

সুতনু জাতকে বলা হয়েছে – অতি প্রাচীন কালে বোধিসত্ত্ব একবার বারাণসীতে অতি দরিদ্র কূলে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর সুন্দর দেহহেতু তাঁর নাম রাখা হয় সুতনু। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তিনি পরের গৃহে ভৃত্যের কাজ করে মাতাপিতার ভরণ-পোষণ করতেন। পিতার মৃত্যুর পর মাতারই সেবা করতেন। একদিন বারাণসীরাজ অমাত্য ও জনসংঘ নিয়ে মৃগয়ায় গমণ করেন। জনসংঘ অরণ্য ঘিরে ঝোপ – ঝাড় পিটিয়ে এক মৃগকে সেই মাঠে নিয়ে আসে। রাজা বলেন- “মৃগ যদি কারো পার্শ্ব দিয়ে পালায়, তার শাস্তি হবে।” তাঁরা একে জীবিত ধরতেই ইচ্ছুক ছিলেন। মৃগটি সুযোগ বুঝে রাজার পার্শ্ব দিয়েই পলায়ন করে। অমাত্যগণ রাজাকে উপহাস করেন। রাজা উহার পশ্চাদ্ধাবন করে বহু দূরে গিয়ে তাকে হত্যা করেন। রাজা হরিণটির মাংস বহন করে আনবার সময় ক্ষুধায় পিপাসায় অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে এক বটবৃক্ষের ছায়ায় শুয়ে পড়েন। সেই বৃক্ষ এক যক্ষের অধিকারে ছিল। যে প্রাণী ঐ বৃক্ষের ছায়ায় আসে সেটাই তার ভক্ষ্য। রাজা নিদ্রোত্থিত হয়ে ফিরবার সময় যক্ষ তাঁকে ধরে ফেলে। রাজা মৃগ মাংস দিয়ে প্রতিদিন আহার্য সহ এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যক্ষের হাত হতে রক্ষা পান। পরদিন হতে রাজা কারাগার হতে এক ব্যক্তিকে আহার্য সহযক্ষের নিকট পাঠাতে থাকেন। ক্রমে কারাগার শূন্য হয়ে রাজ্যে রাজ্যে ভেরি পিঠিয়ে প্রচার করেন- যে ব্যক্তি যক্ষের নিকট আহার্য নিয়ে গমন করবে তাকে এক হাজার টাকা দেওয়া হবে। যদি রাজা তাঁর মঙ্গল অসি, স্বর্ণপাদুকা পরিধান করে এবং শ্বেতচ্ছত্র সঙ্গে দেন দরিদ্র সুতনু আহার্য নিয়ে যক্ষের নিকট যেতে স্বীকৃত হয়। রাজা কারণ জানতে চাইলে সুতনু তার কারণ প্রকাশ করেন। রাজা তাতে সম্মত হন। পরদিন বোধিসত্ত্ব ঐসব নিয়ে যক্ষের নিকট গমন করেন। তিনি বৃক্ষছায়ার বাহিরে থেকে স্বর্ণপাদুকা পরিধান করে এবং শ্বেতচ্ছত্র ধারণ করে অসির আগায় করে যক্ষের আহার্য প্রদান করে। ছায়ার ভিতরে যাবার জন্য যক্ষ আহ্ববান করলে বোধিসত্ত্ব বলেন- “আমি তোমার ছায়ায় নেই শ্বেতচ্ছত্রের ছায়াতেই আছি। তোমার মাটিতে নেই স্বর্ণপাদুকাতেই আছি। অতএব আমাকে ধরবার তোমার অধিকার নেই। তথাপি তুমি যদি অন্যায়ভাবে আমাকে ধরতে আস, এই মঙ্গল অসি দিয়ে তোমাকে হত্যা করব। জগতেও দুর্ণাম প্রচার হবে যে- মাতৃপিতৃ পোষক সুতনুকে তুমি ভক্ষণ করেছ। খাদ্য নিয়ে তোমার নিকট অন্য কেউ আসবে না। যক্ষ তাঁর বাক্যে ও আচরণে তুষ্ট হয়ে খাদ্য মাত্র গ্রহণ করে তাঁকে ছেড়ে দেয়। বোধিসত্ত্ব তাকে উপদেশ দেন- তুমি অতীত পাপের ফলে যক্ষ হয়ে জন্ম নিয়েছ। যদি এভাবে প্রাণীহত্যা করে জীবন যাপন কর ভবিষ্যতে মহানরকে পতিত হয়ে তোমাকে অপ্রমেয় দুঃখ ভোগ করতে হবে। আরও নানাভাবে উপদেশ দিয়ে তিনি তাকে পঞ্চশীলে প্রতিষ্ঠিত করে রাজার নিকট নিয়ে যান। রাজা সকল বৃত্তান্ত জেনে যক্ষকে নগরের বাহিরে থাকবার ও প্রতিদিন আহার দেবার ব্যবস্থা করেন। বোধিসত্বকে প্রচুর সম্পত্তি দিয়ে সেনাপতির পদ প্রদান করেন। রাজা

বোধিসত্ত্বের উপদেশানুসারে রাজ্য শাসন করে রাজ্যবাসীকে সুখী এবং মৃত্যুর পর স্বর্গে গমন করেন। মাতৃপিতৃ সেবক যক্ষের হাত হতেও রক্ষা পায় এ সত্য জেনে জ্ঞানী সন্তান মহোপকারী ও উত্তম পুণ্যক্ষেত্র মাতাপিতাকে সেবা করে।

লেখক: ধর্মদূত ড. সুমনপ্রিয় ভিক্ষু, পূর্ব সাতবাড়ীয়া বেপারীপাড়া রত্নাঙ্কুর বিহার, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!