শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়

মহামঙ্গল সূত্র


ধর্মদূত ড. সুমনপ্রিয় ভিক্ষু:

পবিত্র বর্ষাবাস কালীন সময় বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত পবিত্রতম সময়। এই সময়ে সকল বৌদ্ধ সম্প্রদায় সন্তান-সন্ততি সবাইকে নিয়ে দান, শীল, ভাবনাময় কুশল কর্মে অধিকতর মনোনিবেশ করেন। ছেলে মেয়েদের আলোকিত জীবন গঠনে মহাকারুণিক বুদ্ধের শিক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম “মহামঙ্গল সূত্র”। সচেতন অভিভাবকের উচিত ছেলে মেয়েদের এই মহামঙ্গল সূত্র শিক্ষা করা এবং সূত্রের  অনুবাদ গুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া। এই শিক্ষা ব্যক্তি জীবনে অনুশীলন করতে পারলে সমাজের মহা উপকার সাধিত হবে।

মহামঙ্গল সূত্র

নিদানং

যং মঙ্গলং দ্বাদসহি চিন্তযিংসু সদেবকা,

সোত্থানং নাধিগচ্ছন্তি অট্ঠতিংসঞ্চ মঙ্গলং।

দেসিতং দেব-দেবেন সব্বপাপ বিনাসনং,

সব্বলোক হিতত্থায মঙ্গলং তং ভণাম হে।।

নিদান কথা: দেব-মানবগণ বার বছর চিন্তা করেও কিসের দ্বারা মঙ্গল হয় তা জানতে পারে নি। জগতের নিখিল মঙ্গলের নির্দেশক ভগবান বুদ্ধ  ৩৮ প্রকার মঙ্গলযুক্ত সমস্ত পাপক্ষয়কারী মঙ্গল পরিত্রাণ দেব-মানবের হিতার্থে দেশনা করেছিলেন।

[ ভগবান বুদ্ধের প্রধান সেবক আনন্দ স্থবির রাজগৃহে প্রথম মহাসঙ্গীতিতে মহাকাশ্যপ প্রমুখ সঙ্ঘকে  উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:]

এবং মে সুতং- একং সমযং ভগবা, সাবত্থিযং বিহরতি জেতবনে অনাথপিণ্ডকস্স আরামে। অথ খো অঞ্ঞতরা দেবতা অভিক্কন্তায রত্তিযা অভিক্কন্তবণ্না কেবলকপ্পং জেতবনং ওভাসেত্বা, যেন ভগবা তেনুপসঙ্কমি, উপসঙ্কমিত্বা ভগবন্তং অভিবাদেত্বা একামন্তং অট্ঠাসি। একমন্তং ঠিতা খো সা দেবতা ভগবন্তং গাথায অজ্ঝভাসি-

অর্থাৎ আমি এইরূপ শুনেছি – এক সময় ভগবান শ্রাবস্তীর জেতবন উদ্যানে অনাথ পিন্ডিক শ্রেষ্ঠীর নির্মিত বিহারে অবস্থান করছিলেন। তখন দিব্য আভরণে সজ্জিত একজন দেবতা দিব্যজ্যোতিতে সমুদয় জেতবন আলোকিত করে শেষ রাতে ভগবান বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে অভিবাদনপূর্বক একপার্শ্বে দাঁড়িয়ে সুললিত কণ্ঠে বললেন:

সূত্র

০১। বহূদেবা – মনুস্সা চ, মঙ্গলানি অচিন্তযুং,

আকাঙ্খামানা সোত্থানং, ব্রূহি মঙ্গলমুত্তমং।

০১। বহু দেবতা ও মানুষ মঙ্গল বিষয় চিন্তা করেছিলেন,

কেউ  সঠিকভাবে বলতে পারে নাই, দয়া করে আপনি বলুন।

 

০২। অসেবনা চ বালানং, পণ্ডিতানঞ্চ সেবনা,

পূজা চ পূজনীযনং, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০২। মূর্খ লোকের সেবা না করা, জ্ঞানী লোকের সেবা করা,

পূজনীয় ব্যক্তিগণের পূজা করা উত্তম মঙ্গল।

 

০৩। পতিরূপদেবসবাসো চ, পুব্বে চ কত পুঞ্ঞতা,

অত্তসম্মা পণিধি চ, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৩। প্রতিরূপ দেশে (ধৰ্মত জীবন ধরণের উপযোগী) বাস করা,

পূর্ব জন্ম কৃত পুণ্য প্রভাবে প্রভাবান্বিত থাকা,

নিজেকে সম্যক পথে রাখা, উত্তম মঙ্গল।

 

০৪। বাহুসচ্চঞ্চ সিপ্পঞ্চ, বিনযো চ সুসিক্খিতো,

সুভাসিতা চ যা বাচা, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৪। বহু শাস্ত্র জ্ঞান লাভ করা, বিবিধ শিল্প শিক্ষা করা,

বিনয়ী ও সুশিক্ষিত হওয়া, সুভাষিত বাক্য বলা, উত্তম মঙ্গল।

 

০৫।  মাতা-পিতু উপট্ঠানং, পুত্তদারস্স সঙ্গহো,

অনাকুলা চ কম্মন্তা, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৫। মাতা – পিতার সেবা করা, স্ত্রী – পুত্রের উপকার করা,

নিষ্পাপ ব্যবসা বাণিজ্য করা, উত্তম মঙ্গল।

 

০৬।  দানঞ্চ ধম্মচরিযা চ, ঞাতকানঞ্চ সঙ্গহো,

অনবজ্জানি কম্মানি, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৬। দান দেওয়া, ধর্ম আচরণ করা,

জ্ঞাতি বর্গের হিতসাধন করা,

অনবদ্য অর্থাৎ কুশল কাজ করা, উত্তম মঙ্গল।

 

০৭। আরতি বিরতি পাপা, মজ্জপানা চ সঞ্ঞমো,

অপ্পমাদো চ ধম্মেসু, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৭। কায় – মন – বাক্যে পাপে অনাসক্ত বা বিরত থাকা,

মদ্যপানে সংযত থাকা, অপ্রমত্তভাবে

(প্রমাদ বা মোহ ত্যাগ করে) পুণ্যকর্ম করা, উত্তম মঙ্গল।

 

০৮। গারবো চ নিবাতো চ, সন্তুট্ঠী চ কতঞ্ঞুতা,

কালেন ধম্মসবণং, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৮। গৌরবান্বিত ব্যক্তির গৌরব করা, সম্মান করা,

প্রাপ্ত বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকা, উপকারীর উপকার স্বীকার করা,

যথাসময়ে ধর্ম শ্রবণ করা, উত্তম মঙ্গল।

 

০৯। খন্তী চ সোবচস্সতা, সমণানঞ্চ দস্সনং,

কালেন ধম্মসাকচ্ছা, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

০৯। ক্ষমাশীল হওয়া, গুরুজনের আদেশ পালন করা,

শীলগুণ বিমণ্ডিত শ্রমণদের দর্শন করা,

যথাসময়ে ধর্মালোচনা করা, উত্তম মঙ্গল।

 

১০। তপো চ ব্রহ্মচরিযঞ্চ, অরিযসচ্চান দস্সনং,

নিব্বান সচ্ছিকিরিযা চ, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

১০। চার ব্রহ্ম বিহার (মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষা)

ভাবনায়রত থাকা, চার আর্য্য সত্য জ্ঞান চক্ষুতে দর্শন করা,

নির্বাণ সাক্ষাৎ করা, উত্তম মঙ্গল।

 

১১। ফুট্ঠস্স লোকধম্মেহি, চিত্তং যস্স ন কম্পতি,

অসোকং বিরজং খেমং, এতং মঙ্গলমুত্তমং।

১১। আট প্রকার লোকধর্মে অবিচলিত থাকা,

যথা: লাভ – অলাভ, যশ – অযশ, নিন্দা – প্রশংসা, সুখ – দুঃখ),

শোক পরিহার করা, রাগ – দ্বেষ – মোহরূপ রজশূন্য হওয়া, উত্তম মঙ্গল।

 

১২। এতাদিসানি কত্বান, সব্বত্থমপরাজিতা,

সব্বত্থ সোত্থিং গচ্ছন্তি, তং তেসং মঙ্গলমুত্তমং’তি।।

১২. যে সকল মঙ্গলকর্মের কথা বলা হয়েছে

এইগুলো সম্পাদন করলে দেব – মানব সর্বত্র জয় লাভ করবে

ও নিরাপদে জীবন যাপন করবে।

এইগুলো শ্রেষ্ঠ মঙ্গল বলে জ্ঞান রাখবে।

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!