মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়
উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের এর চলমান জীবন পরিক্রমা

উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের এর চলমান জীবন পরিক্রমা


মানবতাবাদী সংঘমনীষা উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের এর চলমান জীবন পরিক্রমা
( আজ উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের ৮৮তম শুভ জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি)

ভদন্ত বোধিরত্ন ভিক্ষু:

 

পৃথিবীর বুকে প্রতিদিন কত মানব শিশুর আগমন হয়। আবার সকলে হারিয়েও যায়। এই হারিয়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মানুষই আছে যাঁরা তাদের কীর্তির মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে স্মরণীয় হয়ে থাকে। তথাগত বুদ্ধ বলেছেন, মানব জীবন দুর্লভ। কিন্তু এই দুর্র্র্লভ মানব জীবন পেয়ে নিঃশব্দ নীরবে, সবার অলক্ষ্যে হারিয়ে যায় অধিকাংশ মানুষ। যদিও এভাবে হারিয়ে যাওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মূলত পার্থক্য এখানেই। প্রাণীরা জন্ম নেয়, কিছুদিন বেঁচে থাকে তারপর মরে যায়। কিন্তু মানুষ ইচ্ছা করলে তার জীবদ্দশায় অনেক কিছু করতে পারে। মানুষের জন্য, সমাজ-সদ্ধর্মের সমৃদ্ধির জন্য, পৃথিবীর কল্যাণে। এই সুযোগকে অনেকে কাজে লাগায়, অনেকে লাগায় না। সমগ্র পৃথিবীর দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র নিজের চারপাশে তাকালেই এই সত্য প্রকট হয়ে উঠে। যাঁরা মানব জীবনকে কাজে লাগায় তাঁরা স্মরণীয় হয়ে থাকেন তাদের কাজের মাধ্যমে মানুষের মনে। তেমনই একজন অনন্য প্রতিভার অধিকারী, সদ্ধর্মের সূর্য সন্তান, থেরবাদ বিকশিত হবার প্রাণকেন্দ্র মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর বিহারাধ্যক্ষ মূল থেরবাদ আদর্শের প্রতিভূ বিচিত্র ধর্মকথিক, শাসনস্তম্ভ উপসংঘরাজ পরমারাধ্য গুরুদেব ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের।

আর্বিভাব: প্রাজ্ঞ এই মহামনীষীর জীবনচার খুবই ঋদ্ধ। তাঁর কর্মময় জীবনের ব্যপ্তি এতই বিস্তৃত যে, ছোট পরিসরে প্রকাশ করা কিছুতেই সম্ভব নয় বিশেষ করে আমার মতো অধম শিষ্যের মাধ্যমে। এ জন্য প্রয়োজন রয়েছে অভিজ্ঞ কোন জীবনী রচয়িতার, প্রয়োজন রয়েছে বর্ধিত কলেবরে কোন গ্রন্থ রচনার। এখানে শুধুমাত্র সামান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে নির্যাসটুকু লিপিব্ধ করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। তবে এটা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাশা করা যায়, হয়তো এমন একদিন আসবে যেদিন তেমনই মহতী উদ্যেগ গ্রহণ করা হবে। ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথেরো সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ বৌদ্ধ জনপদের দিকে। হাটহাজারী উপজেলার বৌদ্ধ ঐতিহ্যমÐিত একটি সদ্ধর্ম গ্রাম মির্জাপুর। এই গ্রামেই সদ্ধর্মপ্রাণ উপাসক দূযোধন বড়–য়া ও ধার্মিক উপাসিকা শান্তিবালা বড়–য়ার ঘর আলোকিত করে ১৯৩৩ সালে ৭ ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এক পবিত্র মানব শিশু, যাঁর গৃহী নাম অমলেন্দু বড়–য়া। তিনিই সকলের শ্রদ্ধাভাজন উপসংঘরাজ ধর্মপ্রিয় মহাথের। চার ভাই এবং এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। উনার অন্যান্য ভাই-বোনের নাম হলো- হেমেন্দু বড়–য়া, অর্দ্ধেন্দু বড়–য়া, জীবদাশ বড়–য়া এবং বোন খুকিবালা বড়–য়া। পূজনীয় ভন্তের বংশলতিকায় দেখা যায় উনার ঠাকুরদাদার নাম ছিল গোবিন্দরাম বড়–য়া এবং ঠাকুরমার নাম ছিল মালঞ্চ বড়–য়া। গোবিন্দরাম বড়–য়া ও মালঞ্চ বড়–য়ার চার পুত্র। পুত্র সন্তানেরা হলেন- নবরাজ বড়–য়া, যুবরাজ বড়–য়া, ভূবন বড়–য়া, দূর্যোধন বড়–য়া। পূজনীয় ভন্তের জ্যেষ্ঠতাত নবরাজ বড়–য়াই পরবর্তীতে ষষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। যুবরাজ বড়–য়া সংসারধর্ম পালন করেন। তিনি এক পুত্র এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক হন। ভূবন বড়–য়া অকাল প্রয়াত হন। দূর্যোধন বড়–য়াও সংসার ধর্ম পালন করেন এবং চার পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক হন।

শৈশব কাল : শৈশব কৈশোরের দুরন্তপনার মধ্যে সময় অতিবাহিত করে অধিকাংশ শিশু কিশোর। কিন্তু সেই স্বর্ণালী দিনগুলা উপভোগ করেননি অমলেন্দু বড়–য়া। সেই সময়ে পাঠশালা ছিল বিহারভিত্তিক। প্রতিদিন সকালে বিহারে বর্ণবোধ শিক্ষা, বন্দনা শিক্ষাসহ নৈতিক শিক্ষা দেয়া হতো। অমলেন্দুদের সেই গুরুদায়িত্ব পালন করতেন। গৌতম আশ্রম বিহার এর ভন্তে ভদন্ত বিবেকানন্দ ভিক্ষু। তিনি বিহারে আগত শিক্ষার্থীদের নামকরণও করেন। তিনি পÐিত নামে খ্যাত ছিলেন। ভদন্ত বিবেকানন্দ ভিক্ষু ছিলেন ইটালিয়ান সাহেব লোকনাথ ভিক্ষুর শিষ্য। বিবেকানন্দ ভিক্ষু ভালো ইংরেজী বলতে পারতেন। তখনকার প্রেক্ষিতে শিশুদের মতো প্রতিভাবান মিশু অমলেন্দু বড়–য়ার শিক্ষার হাতেখড়ি হয় বিহারে।

গৃহত্যাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা : মানুষের জীবন বহমান নদীর মতো। ভাঙ্গাগড়া এর নিত্য সহচর। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ। মাত্র ৭ বছর বয়সে অনাথ হন অমলেন্দু বড়ুয়া। এই অবস্থায় জ্যেষ্ঠতাত ৬ষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির এর নিকট হতে ডাক পড়েন কিশোর অমলেন্দুর। নিজ জন্মজাত গ্রামের বিহার শিক্ষা অসমাপ্ত রেখে ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাস্থির ভ্রাতুষ্পুত্র কিশোর অমলেন্দুকে নিজের নিকট নিয়ে যান। ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাস্থবির তখন সাতবাড়ীয়া বেপাড়ীপাড়া রতœাঙ্কুর বিহারে অবস্থান করতেন। জেঠা ভন্তে অমলেন্দুকে ‘বাল্যশিক্ষা’ পড়াতেন। প্রকৃতপক্ষে অমলেন্দুর (ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের) কপ্পিয় বা সেবক জীবন (প্রব্রজ্জিত জীবনে প্রবেশের প্রাক্ প্রস্তুতি) শুরু হয় তখন থেকেই। পরবর্তীতে ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাস্থবির সাতবাড়িয়া রতœাঙ্কুর বিহার থেকে ফটিকছড়ি হাইদচকিয়া শান্তিধাম বিহারে চলে আসেন। এই বিহারে এক বছর অবস্থান করার পর গহিরা অংকুরীঘোনা দীঘির পাড় শ্মশানে চলে যান। ভন্তের সাথে ছায়ার মতো অবস্থান করতে থাকেন অমলেন্দু। ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাস্থবির শ্মশানে থাকতেন এবং অমলেন্দুর স্থান হয় জেতবন বিহারে। তখন জেতবন বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ছিলেন প্রিয়তিষ্য মহাস্থবির। সেই বিহারে সেবক ও শ্রমণ মিলে আরও বেশ কজন অবস্থান করত। জেতবন বিহারে অবস্থানকালীন সময়ে অমলেন্দু গহিরা অংকুরীঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আনোয়ারা থানাধীন রুদুরা গ্রামের বাবু উপেন্দ্রলাল বড়–য়া ও নোয়াপাড়া নিবাসী বাবু সন্তোষ বড়–য়া। শিক্ষকদ্বয় ছাত্র অমলেন্দুকে অত্যধিক ¯েœহ করতেন। জানা যায়, শিক্ষকদ্বয় প্রিয় ছাত্র অমলেন্দুকে না দিয়ে কোন খারারও গ্রহণ করতেন না। লেখা-পড়ার ক্ষেত্রেও অমলেন্দুর উপর বিশেষ নজড় দিতেন। অমলেন্দুও শিক্ষকদের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। শিক্ষকদের যে কোন কাজে তিনি এগিয়ে আসতেন বিনাবাক্যে এবং নিষ্ঠার সাথে সব কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করতেন। এই ভাবে বিদ্যালয়, বিহারের কাজ এবং নিজের লেখাপড়ার মাঝে নিজেকে নিমগ্ন রেখে সময় অতিবাহিত করতে থাকেন অমলেন্দু বড়–য়া।

প্রব্রজ্জ্যা জীবন : ১৯৪৬ সালে অখÐ ভারতবর্ষ। ইংরেজ শাসনের সুর্য অন্তগামী। স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উত্তাল সমগ্র ভারতবর্ষ। অমলেন্দু বড়–য়ার জীবনে আসে এক মাহেন্দ্রক্ষণ। সংসারের বন্ধন সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করে অনাগারিক জীবনে প্রবেশ করার সুযোগ। শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা। ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৌদ্ধদের পবিত্রতম দিন। পুর্ণচাঁদের রূপালী আলোয় চারদিক উদ্ভাসিত। এমনই পবিত্রতম দিনে গহিরা জেতবন বিহাওে ৬ষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবিরের নিকট মাত্র তের বছর বয়সে অমলেন্দু শ্রামন হিসেবে প্রব্রজ্জ্যা গ্রহণ করেন। নতুন দীক্ষাপ্রাপ্ত শ্রামণের নাম রাখা হলো ধর্মপ্রিয়। এক অর্থবহ নাম। ধর্ম অর্থাৎ সদ্ধর্ম যাঁর প্রিয়। ধর্মপ্রিয় শ্রামণের আচার্য গুরু ছিলেন ভদন্ত প্রিয়তিষ্য মহাস্থবির ও সারানন্দ মহাস্থবির। বিপুর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রব্রজ্জ্যা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সারারাত কীর্তন ও চা চক্রের আয়োজন করা হয়। শুরু হয় ধর্মপ্রিয় শ্রামণের বিনয়াবদ্ধ সুরক্ষিত অন্য এক অনন্য জীবন। নিঃসন্দেহে প্রব্রজ্জিত জীবনের মাধ্যমে এক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়। তেমনই এক জীবনকে সানন্দে বরণ করে নেন অমলেন্দু। বুদ্ধির বয়স থেকে তেমনই এক পবিত্র জীবনের আকাক্সক্ষা নিত্যাদিন নিজের ভেতর লালন করতেন। তাই তিনি স্বপ্নের সার্থকতায় আপ্লুত হয়ে পড়েন। ১৯৪৭ ইং সাল। তখন বিনাজুরী শ্মশান বিহার ভিক্ষু শূন্য। পÐিত ধর্মাধার ভন্তের (কলিকাতা) অনুরোধে সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির মহোদয়কে বিনাজুরী শ্মশান বিহার এর অধ্যক্ষের পদ গ্রহণ করতে হয়। শ্রামণ ধর্মপ্রিয়ও সংঘরাজ ভন্তের অনুগামী হন। বিনাজুরী গ্রামবাসী কীর্তনসহকারে সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবিরকে অধ্যক্ষ পদে বরণ করে নেন।
ধর্মপ্রিয় শ্রামণের বিনয়ের নির্দেশনানুযায়ী বয়োবৃদ্ধ বিহারাধ্যক্ষ ভন্তের সেবা যতœ করতেন, উপাধ্যায়ব্রত সম্পন্ন করতেন। ভন্তে এবং শ্রামণ ব্যতীত বিহারে অন্য কোন লোক বসবাস করতো না। প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। তখন গ্রামগুলো অন্য রকম ছিলো। গ্রামের জীবন কোন দিকেই উন্নত ছিল না। না ছিল ভালো রাস্তাঘাট, না ছিল বিজলী বাতি, না ছিল মানুষের কোলাহল। ছিল না মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা। তেমন একটি পরিবেশের কথা ভাবলেও গা ছমছম করে উঠে। সেই নির্জনতা ছিলো অরণ্যবাসের সমতুল্য। এক অর্থে বলতে গেলে শ্রামণ ধর্মপ্রিয়ের সেই জীবন ছিলো সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ। বিহারে রাতের বেলা একজন বৃদ্ধ উপাসক থাকার জন্য আসতেন। তিনি হলেন- শিক্ষক নিকুঞ্জ বিহারী বড়–য়ার পিতা। সম্পর্কে তিনি শ্রামন ধর্মপ্রিয়ের মামা। এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। বিহারাধ্যক্ষ ভন্তের নির্দেশে ধর্মপ্রিয় শ্রামনকে বিনাজুরী সোনাইর মুখ হাই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি করাইদেন। তখন সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রিয়দারঞ্জন বড়–য়্ াশিক্ষক ছিলেন সিন্ধুরাজ বড়–য়া ও নিকুঞ্জবিহারী বড়–য়া। এখানেও শিক্ষকদের প্রিয়পাত্র এবং সুবাধ্য ছাত্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন ধর্মপ্রিয় শ্রামন। সেই দিনগুলো ছিল অবর্ণনীয় কষ্টের। অনেক চড়াই উতরাই পার করে শ্রামন ধর্মপ্রিয় লেখাপড়া করতে হয়েছিল। অধ্যায়ণের প্রতি অত্যধিক আগ্রহের কারণে এই কষ্টকে তিনি হাসি মুখে বরণ করে নিয়েছিলেন।

উপসম্পদা লাভ : ১৯৫৩ সালে ধর্মপ্রিয় শ্রামণের জীবনে আসে আরেকটি আলোকিত দিন। দীর্ঘ ৭ বছর শ্রামণ্যধর্ম পালনের পর ভিক্ষু হিসেবে উপসম্পদা লাভ করেন। আজন্মলালিত আর একটি স্বপ্নের সার্থক বাস্তবায়ন ঘটে। বিনাজুরী শ্মশান বিহারে কঠিন চীবর দান। এই উপলক্ষ্যে সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির এর উপধ্যায়াত্বে বিনাজুরী শ্মশান বিহার এর পাষাণ সীমায় শ্রামণ ধর্মপ্রিয়কে উপসম্পদা প্রদান করা হয়। এই উপসম্পদায় অনেক প্রাজ্ঞপÐিত ভিক্ষু সংঘ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হরেন- ১. উপসংঘরাজ গুণালংকার মহাস্থবির ২. উপসংঘরাজ জিনবংশ মহাস্থবির ৩. ভদন্ত প্রিয়তিষ্য মহাস্থবির ৪. ভদন্ত শান্তপদ মহাস্থবির ৫. ভদন্ত শ্রদ্ধানন্দ মহাস্থবির ৬. ভদন্ত গিরিমানন্দ মহাস্থবির ৭. ভদন্ত সারানন্দ মহাস্থবির ৮. ভদন্ত লোকানন্দ স্থবির ৯. ভদন্ত পূর্ণানন্দ স্থবির । উপসম্পদার পর ক্রমান্বয়ে ধর্মীয়কার্য ও বিহারের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় ভিক্ষু ধর্মপ্রিয় এর উপর। গুরুভন্তে সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির এর শারীরিক অবস্থাও দিন দিন খারাপের দিকে যেতে থাকে। জ্বরা বার্ধক্য প্রবলভাবে আক্রমণ করে। দায়িত্ব বেড়ে যায় ভিক্ষু ধর্মপ্রিয় এর। সংঘরাজ ভন্তের সেবা শুশ্রæষা করার কথা তখন আর কেউ ছিলো না। বছরের পর বছর এই সেবাধর্ম চালিয়ে যান তিনি। চার বছর শয্যাশায়ী ছিলেন গুরুভন্তে। সার্বক্ষণিকভাবে পাশে থাকতে হয় ধর্মপ্রিয় ভিক্ষুকে। ফলশ্রæতিতে লেখা পড়া বন্ধ। তারপরও মনে সান্তনা, বেঁচে থাকলে লেখা-পড়া করা যাবে। কিন্তু গুরুর সেবা করার সুযোগ তো আর পাওয়া যাবে না। গুরুর সেবা করা দুর্লভ। এই কুশল চিন্তা থেকে ভিক্ষু ধর্মপ্রিয় এর দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব হয়নি। গুরুভন্তেকে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পরম মমতায়, ঐকান্তিক আন্তরিকতার সাথে কোন রকম দ্বিধা না রেখে সেবা করেন। গুরুর প্রতি কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিনয়ে অনেক নির্দেশনা দেওয়া আছে। ভদন্ত ধর্মপ্রিয় ভিক্ষু তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।

গুরু ভন্তের মহাপ্রয়াণ : ১৯৫৭ সালের ২৩ শে অক্টোবর। ভোর ৫ টা। মহাপ্রয়াণ করেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার ষষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির। মরদেহে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে পেটিকাবদ্ধ করা হয়। মহাপ্রয়াণ হওয়ার তিন/চার মাস পরে মাঘী পূর্ণিমায় সংঘরাজ ভন্তের দাহকার্য সম্পন্ন করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নির্ধারিত দিনে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির মহোদয়ের যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় দাহক্রিয়া সুসম্পন্ন করা হয়। এই উপলক্ষে রথটানার ব্যবস্তা করা হয়েছিল। চারিদিকে সাঁজ সাঁজ রব। যেন কোন জাতীয় উৎসব। সেদিন সেই মহোৎসবে হাজার হাজার নর-নারী উপস্থিত হয়েছিল। যথাযোগ্য মর্যাদায় ৬ষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবিরকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

ঐতিহ্যবাহী বাগোয়ান ফরাচিং বিহারে আগমন : গুরুভন্তে ষষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির এর অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভদন্ত ধর্মপ্রিয় ভিক্ষু চলে াাসেন বাগোয়ান ফরাচিং বিহারে। এই বিহারে অবস্থাকালীন সময়ে তিনি প্রতিদিন চলে আসতেন মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে। উদ্দেশ্য বিনাচার্য উপ সংঘরাজ জিনবংশ মহাস্থবিরের সান্নিধ্যলাভ, বিনয় শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। পায়ে হেঁটে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তিনি এই কাজটি প্রায় প্রতিনিয়তই করতেন। একজন প্রকৃত প্রব্রজ্জিত পÐিতের নিকট বিনয় হলো বর্মস্বরূপ। তথাগত বলেছেন- যতদিন ভিক্ষুরা বিনয় সম্মত জীবন যাপন করবেন ততদিন সদ্ধর্মের পরিহানী হবে না। এই মর্মবাণী ভিক্ষু ধর্মপ্রিয় মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই এই পথশ্রম, এই কায়ক্লেশকে তিনি উপেক্ষা করেছিলেন। সদ্ধর্মশিক্ষার প্রতি উনার যে অনুরাগ, তা তাঁর নামেরই সার্থকতার পরিচায়ক। প্রব্রজ্জিত জীবনের প্রারম্ভের এই শিক্ষা এখনো তিনি অন্তরে ধারণ করে আছেন, সার্বক্ষণিক আচরণ করে চলেছেন।

বাগ্নীশ্বর আনন্দমিত্র মহাথেরর সান্নিধ্য লাভ : ১৯৫৯ সালে অখিল ভারতীয় সংঘনায়ক ত্রিপিটক বাগ্মীশ্বর ভদন্ত আনন্দমিত্র মহাস্থবির শ্রীলংকা থেকে শিক্ষা শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবস্থান করতে লাগলেন। আনন্দমিত্র মহাস্থবির অত্যন্ত পÐিত ছিলেন। তিনি ত্রিপিটক অনুবাদ করতে পারতেন। সমাজে একজন গ্রহণযোগ্য ভিক্ষু ছিলেন। তিনি বহুগ্রন্থ প্রণেতা। ধর্ম-বিনয় শিক্ষার তীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে ছুটে যান ভিক্ষু ধর্মপ্রিয়। প্রাজ্ঞ পুরুষের সান্নিধ্যে সদ্ধর্ম শিক্ষার তথা বিনয় শিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। যাঁর ধর্মসুধা আহরণের স্পৃহা তিনি তো আলোর সন্ধানে ছুটে যাবেই। সদ্ধর্ম শিক্ষার প্রতি আমার গুরু ভন্তের যে অনুরাগ তা তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রমানিত করেছেন এবং করে যাচ্ছেন।

সদ্ধর্ম শিক্ষায় রেঙ্গুন গমন : ১৯৬২ সালে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় ভিক্ষুর জীবনে আসে সদ্ধর্ম শিক্ষার আর এক সুবর্ণ সুযোগ। সেই সুযোগ হলো প্রতিরূপ দেশ মিয়ানমার তথা রেঙ্গুন গমন। কিন্তু এই সুযোগ লাভ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। সদ্ধর্ম শিক্ষার প্রতি ঐকান্তিক ইচ্ছায় “বুদ্ধ শাসন কাউন্সিল” তদানীন্তন বার্মার গবায়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। ত্রিপিটক শিক্ষার অনুমতিলাভের পর রেঙ্গুন বুদ্ধ শাসন কাউন্সিল,গবায়ে গমন করেন। কাউন্সিলের নির্দেশক্রমে বৃত্তি নিয়ে পাঁচ বছর শিক্ষা অর্জন করার সুযোগ পান। এই সময়ে অগ্গমহাপÐিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির মহোদয় এর নিকট শিক্ষার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাছাড়া রেঙ্গন মহাসঙ্গীতির প্রশ্নদাতা মহাপÐিত আর্য্যশ্রাবক উ. মহাচি সেয়াড ভাবনা সেন্টার এ তিন মাস (বর্ষাবাসকালীন) ভাবনা অনুশীলন করেন। পরবর্তীতে ভন্তে এবং আরও কয়েকজন ভিক্ষু বিদর্শনাচার্য উ. পÐিতা নামক প্রাজ্ঞ ভিক্ষুর নিকট বিনয় ও ধ্যান বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। ভন্তের বদ্ধমূল ধারণা প্রব্রজ্জিত জীবনের প্রারম্ভে তিনি গুরু সেবার মাধ্যমে যে কুশলকর্ম সম্পাদন করেছিলেন, তারই পুণ্য প্রভাবে বিখ্যাত পÐিত ভিক্ষুদের সান্নিধ্য লাভ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ভন্তের উচ্ছা ছিল দীর্ঘদিন মায়ানমার অবস্থান করে সদ্ধর্ম শিক্ষা এবং ধ্যানানুশীলন চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ইতোমধ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ার কারণে সেখানে অবস্থান করার াার অনুমতি পাওয়া যায়নি। শ্রদ্ধেয় পরমারাধ্য গুরুদেব উপসংঘরাজ ভন্তে যতদিন মায়ানমার ছিলেন ততদিন বিন্দু মাত্র সময় অপচয় না করে শীলময় জীবন, ভাবনাময় জীবন ও বিনয়ানাকূল ব্রহ্মচর্য জীবন অতিবাহিত করে ধর্ম বিনয় শিক্ষা করে নিজেকে আলোকিত করেছেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : শ্রদ্ধেয় ভন্তে ১৯৬৭ সালে দীর্ঘদিন মায়ানমার অবস্থান করার পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রত্যাবর্তনকালীন সময়ে বর্ষাবাস সমাসন্ন। তাই বাগোয়াবাসীর অনুরোধে পুনরায় ফরাচিং বিহারে অবস্থান করেন। বর্ষাবাস শেষ হওয়ার পর রাউজান বিমলানন্দ বিহার এর দায়ক-দায়িকার আহŸানে এবং মহান সংঘের নির্দেশে সেখানে গমন করেন।

বিমলানন্দ বিহারে অবস্থান : ১৯৬৮ সালে রাউজান বিমলানন্দ বিহার প্রাঙ্গণে ভিক্ষু পরিবাস ব্রতের আয়োজন করা হয়। ১২ দিন ব্যাপী এই মহান পবিত্র ভিক্ষু পরিবাসব্রত অনুষ্ঠান চলে। এই উপলক্ষ্যে এক মহাসম্মেলন সভার আয়োজনও করা হয়। এই মহাসম্মেলনে মহামান্য ৭ম সংঘরাজ অভয়তিষ্য মহাস্থবির মহোদয় সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেন। প্রধান অতিথি হিসাবে আগমন করেছিলেন তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গণপূর্ত ও বিজলী মন্ত্রী অংশু প্রæ চৌধুরী মহোদয়। এ ছাড়াও এই মহতী অনুষ্ঠানে বহু সরকারী ও বেসরকারী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। খুবই আনন্দঘন পরিবেশে পরিবাস বা ওয়াইক সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে পুজনীয় ধর্মপ্রিয় ভন্তের অবদান বা ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের এর জীবনে এক আলোক উজ্জ¦ল দিন। এই বছর পালি সংস্কৃত বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত বিনয় উপাধী পরীক্ষায় অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। প্রব্রজ্জিত জীবনের শুরু থেকে বিনয়ের প্রতি অনুরাগ এবং মায়ানমাওে অবস্থানকালীন সদ্ধর্মশিক্ষা এই সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান : ১৯৭১ সালে বাঙালির জীবনের এক ঐতিহাসিক সময়। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অবদান, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার পক্ষে অংশগ্রহণ আমাদের জাতিকে গর্বিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালিদের জন্য স্মরণীয় এবং ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত একটা অধ্যায়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও লাখো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় সবুজের মাঝে রক্ত সূর্যখচিত একটি পতাকা, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, আমাদের প্রেরণার উৎস। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে গেছেন। যাদের জন্য আমরা গর্বিত এবং অনুপ্রাণিত। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছিলেন। অনেক হিন্দু, মুসলমানকে প্রাণে রক্ষা করেছেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মানব সেবা, ধর্মপ্রচার, শিক্ষাব্রতী এবং দেশ মাতৃকার জন্য নিবেদিত প্রাণ। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় এবং দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়। যুদ্ধকালীন সময়েও ভন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন দূর্গত গ্রাম থেকে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের দেখাশুনা, অন্নের ব্যবস্থা, গ্রামের নিরাপত্তা বিধানের জন্য কমিটি গঠন করে পাহাড়ার ব্যবস্থা, দূরাগত মুক্তিযুদ্ধাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ইত্যাদি করে অবদান রেখেছেন। মহান স্বাধিনতা যুদ্ধে ভন্তের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।

প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা : ১৯৭২ সালে পূজনীয় ভন্তের উদ্্েযগে ‘বিমলানন্দ শিক্ষা সংস্কৃতি সমাজ কল্যাণ সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর থেকে রেজিস্টেশনের ব্যবস্থাও করেন। শুধু তাই নয়, তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের তহবিলে অর্থও দান করেন। পরবর্তীতে ইে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে খেলাধূলা ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এছাড়াও বৃত্তির প্রচলন করা হয়। এতে ঐ অঞ্চলের শিক্ষা-সংস্কৃতি বিকাশে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। একটি জনগোষ্ঠী শিক্ষা, সংস্কৃতিতে উন্নত না হলে পিছিয়ে পড়ে, এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞা ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মননে লালন করতেন। অধিকন্তু শিক্ষানুরাগী হয়েও প্রথাগত শিক্ষা অর্জন না করতে পারার আক্ষেপ তাঁর মধ্যে সবসময় ছিলো।
১৯৭৪ সালে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের আরও একটি উল্লেখযোগ্য কুশলকর্ম সম্পাদন করেন। তাহলো ‘বিমলানন্দ পালি কলেজ’ প্রতিষ্ঠা। এই কলেজ হতে প্রতি বছর আদ্য, মধ্য, উপাধি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে প্রজন্মের মধ্যে সদ্ধর্মনুরাগ বৃদ্ধি পায়। ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের এটা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন যে, প্রজন্মের মধ্যে সদ্ধর্ম চেতনা সৃষ্টি করতে না পারলে পারিবারিক,সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে অধঃপতন নেমে আসবে। উনার এই দূরদৃষ্টির কারণে অনেক প্রজন্ম সদ্ধর্মানুরাগী হয়ে উঠে। শৈশব, কৈশোরে যথাযথ সদ্ধর্মশিক্ষা পায় না বলেই প্রজন্ম হারিয়ে যায়। তাই সদ্ধর্মের সত্যসূধা বিতরণের জন্য, আস্বাদনের সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের সারাজীবন মানব কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। বলতে গেলে গুরুভন্তে সারাজীবন মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান।

‘মহাস্থবির’ অভিধায় অভিসিক্ত :
‘পূজকো লভতে পূজং, বন্দকো পটিবন্দনং,
যসো কিত্তিঞ্চ পাপ্পোতি, যো মিত্তানং ন দূভতি’।
অর্থাৎ যারা অন্যকে পূজা করে তারা নিজেরাও পূজা লাভ করেন। যারা অন্যকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও বন্দনা করে তারা নিজেরাও সম্মান, শ্রদ্ধা ও প্রতিবন্দনা লাভ করেন। তাছাড়া চতুর্দিকে তাদের যশ-কীর্তি বিঘোষিত হয়, কোথাও কখনো তাদের মিত্র সম্পদের অভাব হয় না। যে সমাজে গুণী-জ্ঞানী ব্যক্তিদের যত কদর থাকবে এবং সুশীল, পÐিত ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণের সেবা, পূজা, সৎকার ও গৌরব থাকবে তাঁদের ধর্মত রক্ষাসহ তাঁদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে, সে সমাজে তত গুণী-জ্ঞানী, শীলবান প্রজ্ঞাবান ও আত্মত্যাগী মহাপুরুষেগণের জন্ম হবে। পূজনীয় গুরুভন্তে ১৯৭৬ সালে ভিক্ষু জীবনের পরম প্রাপ্তি ‘মহাস্থবির’ অভিধায় অভিসিক্ত হন। প্রব্রজ্জিত জীবনের অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার পর এমন একটি সম্মানজনক অবস্থানে পোঁছানো যায়। এই পরম প্রাপ্তি, এই সৌভাগ্য অনেক ভিক্ষুর জীবনে ঘটে না। রাউজান বিমলানন্দ বিহার এ পবিত্র জায়গায় মহাস্থবির বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই মহতী পুণ্য অনুষ্ঠানে শতাধিক ভিক্ষুসংঘ উপস্থিত ছিলেন। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য অসংখ্য নর-নারী দূর-দূরান্ত থেকে সেদিন উপস্থিত হয়েছিল। এমন এক পুণ্যময় অনুষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মহামান্য ৮ম সংঘরাজ শীলালংকার মহাস্থবির মহোদয়। এছাড়াও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তদানীন্তন সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রী শামশুল হুদা চৌধুরী। উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য সংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের মহোদয়। প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটিস্থ রাজগুরু অগ্রবংশ মহাস্থবির।

ঐতিহ্যবাহী মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে শুভাগমণ : থেরবাদ পুনর্জাগরণের সূতিকাগার এই মহামুনি গ্রাম। তমাশাচ্ছন্ন এই অঞ্চলে আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দিতে আরাকান থেকে ১৮৬৪ সালে দ্বিতীয় বার আগমন করেন প্রাজ্ঞ প্রভাত পুরুষ সংঘরাজ সারমেধ মহাথের। মহামুনির পবিত্র ভূমিতে অবস্থান করেই তিনি সমাজ-সদ্ধর্মের কল্যাণে কাজ করে গেছেন প্রতিনিয়ত। মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে তিনি অবস্থান করেছেন তা সহজেই অনুমেয়। তেমনই ঐতিহ্যমÐিত এই বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উপসংঘরাজ ভদন্ত জিনবংশ মহাথের এর শবদেহ বা অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান। ভদন্ত জিনবংশ মহাথের এর মহাপ্রয়াণে মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের বিহারাধ্যক্ষের আসনটি শূণ্য হয়। আগেরদিন রাতে তৎকালীন ভিক্ষু পুরোধাগণ মহামন্দ সংঘরাজ বিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করার জন্য এক জরুরী সভায় মিলিত হয়। উপস্থিত ভিক্ষুসংঘের সকলেই বিহার অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। কারণ যিনি বিহারাধ্যক্ষ হবেন তাঁকেই সেই সময়ে বিহারের বিরুদ্ধে চলা মামালার প্রধান আসামী হতে হবে। এই কথাটা ভিক্ষুসংঘের কাছে প্রকাশ করেছিলেন বিশিষ্ট উপাসক, দানশীল বাবু রূপম কিশোর বড়–য়া। বিশেষত এই কারণেই সেদিন কোন ভিক্ষু মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের দায়িত্ব নিতে চাননি। অবশেষে সংঘ পুরোধাগণ সম্মিলিতভাবে অকুতোভয় সাংঘিক ব্যক্তিত্ব ধর্মপ্রিয় মহাথের এর উপর দায়িত্ব অর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরদিন সকালে সকলের আকাক্সিক্ষত ঘোষণাটি আসে। সেদিন সকাল বেলা ছিল চীবর দান অনুষ্ঠান। ১৯৯০ সালে এই অনুষ্ঠান থেকেই সিদ্ধান্তক্রমে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়কে ঐতিহ্যবাহী মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে বিহারাধ্যক্ষের দায়িত্ব ও ঘোষণা করা হয়। একই বছর মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর উপাসক-উপাসিকাসহ বহু গুনগ্রাহী ভক্তবৃন্দ যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে শ্রদ্ধেয় গুরুভন্তেকে বিহারাধ্যক্ষ হিসেবে বরণ করে নেওয়া হয়।
মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান : পরিশুদ্ধ থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের সুতিকাগার, বাংলার বৌদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির লালনভূমি মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামের মহানন্দ সংঘরাজ বিহার। আজকের মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর স্থাপত্য শৈলী দেখে ২৫/২৬ বছর আগের মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর চিত্র কল্পনাও করা যাবে না। শ্রদ্ধেয় ভন্তে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় যখন মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন সকল অবকাঠামোই ছিল মাটির। তাছাড়া মামলার ঝামেলা তো আছেই। এক সমস্যা সঙ্কুল সাগর পাড়ি দিয়ে আজকের এই শান্ত সমাহিত সেীন্দর্যমÐিত নয়নাভিরাম সবুজ প্রান্তর আমাদেরকে পুলকিত করছে। এই দুর্গম পথের পথ প্রদর্শক, উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার কাÐারী ছিলেন মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর রূপকার আজকের উপসংঘরাজ, শাসনস্তম্ভ, বিচিত্র ধর্মকথিক ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়। নিঃসন্দেহে এ ব্যাপারে শ্রদ্ধেয় ভন্তেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের সদ্ধর্মানুরাগী দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা, শুভনুধ্যায়ী. ঊহু দানশীল ব্যক্তি এবং দেশে-বিদেশে অবস্থারত শ্রদ্ধেয় গুরু ভন্তের ভক্ত মন্ডলী। ১৯৯২ সালে মহানন্দ সংঘরাজ বিহার নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এই বছর কঠিন চীবর দান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তদানীন্তন সরকারের মাননীয় মন্ত্রী আবদুল আল নোমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনি বিহার নির্মাণ কল্পে অনুদান প্রদান করেন। ১৯৪৭ সালে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের এর নেতৃত্ব ও পরামর্শে বিহার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলতে থাকে। ভন্তের এহেন কর্মপ্রচেষ্টার কুতজ্ঞতাস্বরূপ বিহার কমিটি এবং গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে শ্রদ্ধেয় ভন্তেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ জন্য একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রদ্ধেয় গুরুভন্তেকে কর্মবীর উপাধিতে ভূষিত এবং স্বর্ণপদকে সম্মানিত করা হয়। এভাবে অকাতরে নিজের মেধা, শ্রম ও অর্থ দিয়ে মহানন্দ সংঘরাজ বিহারকে নতুন রূপ দান করে চলেছেন। ২০১১ সালের পূর্বে মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে কোন স্থায়ী মঞ্চ চিল না। এতে সময় এবং অর্থ উভয়েরই অপচয় হতো। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত করার জন্য জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই অভাব দূর করার জন্য মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের দায়ক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক লায়ন গভর্নর রূপম কিশোর বড়–য়ার পৃষ্টপোষকায় দৃষ্টিনন্দন একটি স্থায়ী মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি অনি স্মৃতি মিলনায়তন এবং অন্যান্য স্থাপনা প্রতিষ্টার জন্য অবদান রেখেছেন। ২০১২ সালে শ্রদ্ধেয় ভন্তের উৎসাহ ও প্রেরণায় বাবু সরজিত বড়–য়া রুরু মহানন্দ সংঘরাজ বিহার প্রাঙ্গণে দৃষ্টিনন্দন অষ্টাবিংশতি বুদ্ধ মূর্তি ও চৈত্য নির্মাণ এবং থাইল্যাÐ হতে বুদ্ধমূর্তি, সীবলী মূর্তি ও সারিপুত্র মূর্তি আনায়ণ করেন। উনার একক আর্থিক সহায়তায় এই উপলক্ষ্যে বিশাল এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বুদ্ধমূর্তির জীবন্যাস, স্মরনিকা প্রকাশ এবং এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অষ্টাবিংশতি বুদ্ধ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত¡াবধান এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়। বিগত সাতাইশ বছরে মহানন্দ সংঘরাজ বিহারে যে সকল শৈল্পিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে এর রূপকার ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের। তাঁরই অনুপ্রেরণা, নেতৃত্ব এবং সার্বিক তত্ত¡াবধানে মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর সকল দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা, গ্রামবাসী, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শ্রদ্ধেয় গুরুভন্তের শিষ্যমন্ডলী দাতাসাধারণের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। এইসব স্থাপনা তৈরীতে, যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তাঁদের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ অষ্টাবিংশতি বুদ্ধমূর্তি ও ধাতুচৈত্য উৎসর্গ অনুষ্ঠান স্মরণিকা ‘প্রজ্ঞা’য় প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমÐলে বিচরণ ও সম্মান লাভ : ২০০৬ সালে ইউনাইটেড বুড্ডিস্ট সংঘ কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলিকাতা সাইসসিটি হলে মানবতাবাদী মাতাজীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধেয় ভন্তেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং উক্ত অনুষ্ঠানে সদ্ধর্মের সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। কলিকাতা বিমান বন্দর পাশে ভন্তের প্রিয় শিষ্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ ডি প্রাপ্ত ড. জিনপ্রিয় মহাথের কর্তৃক একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম হলো “ধর্মপ্রিয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার মিশন”। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন পূজনীয় গুরুভন্তে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়। এতেই প্রমাণিত হয় যে, সদ্ধর্ম-সমাজের সমৃদ্ধির জন্য ভন্তের মনে এক ধরণের তাগিদ সর্বদা কাজ করে থাকে। তথাগত বুদ্ধ বলেছেন- জ্ঞাতীর ছায়া সুশীতল। বৌদ্ধধর্ম সার্বজনীন মানবতায় বিশ্বাসী হলেও প্রথমেই আমাদেরকে জ্ঞাতীর দিকে মনোযোগ দিতে হবে, সমাজ-সদ্ধর্মের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। তবেই মানুষের মননে চিরদিন বেঁচে থাকবেন সবাই। ‘ধম্মাকায়া ফাউন্ডেশন’ থাইল্যাÐ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভন্তেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেই মহতী অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৭টি দেশের প্রতিনিধির মধ্যে শ্রদ্ধেয় উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় ছিলেন সংঘপ্রধান। এই অনুষ্ঠানে ভন্তে কর্তৃক প্রদত্ত ধর্মদেশনা ডিএমসি টিভিতে গুরুত্বসহকারে প্রচার করা হয় এবং থাইর‌্যাÐসহ বিশ্ববাসীর কাছে তা প্রশংসালাভ করে। ২০১২ সালে রিসু কোসে কাই সংস্থা, জাপান কর্তৃক শ্রদ্ধেয় গুরুভন্তেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই আমন্ত্রণের ফলে ভন্তে জাপান গমন করেন। সেখানে বিভিন্ন আলোচনায় তিনি এই অঞ্চলের থেরবাদী মতাদর্শের শিক্ষা তুলে ধরতে সক্ষম হন। এই আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভন্তেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী হাঞ্চারঘোন সংরক্ষণে অবদান : পরম পূজনীয় গুরুভন্তে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় ২০১০ সালে সদ্ধর্মের উতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের মূল থেরবাদের ধারক ও বাহক ঐতিহাসিক হাঞ্চারঘোন সংস্কারের মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই চিন্তা চেতনা থেকেই তিনি সংঘরাজ সারমেধ মহাথের মহোদয় কর্তৃক ১৯৬৪ সালে রাউলী পুরোহিতদের পরিশুদ্ধ প্রব্রজ্যার স্থান সুনির্দিষ্ট করেন। এই স্থানটি ‘হাঞ্চারঘোন’ বা ‘ঠাকুর গড়ানী’ নামে পরিচিত। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০০ সালে বাবু অনুপ মুৎসুদ্দী ও তৎসহধর্মিণী শ্রীমতি আলপনা মুৎসুদ্দী ভিক্ষুসংঘকে হাঞ্চারঘোনার পবিত্র জমি দান করেছিলেন। এইক্ষেত্রে প্রফেসর ড. জিনবোধি মহাথের এর অনুপ্রেরণা অনস্বীকার্য। ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য সমাজ হিতৈষী, সদ্ধর্মানুরাগী এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আমার কল্যাণকামী বাবু সরজিৎ বড়–য়া রুরু এগিয়ে আসেন। উনার অর্থানুকূল্যে সীমাঘরের চারপাশে প্রাচীর, ধর্মচক্র স্তম্ভ নির্মাণ এবং বিনয় অনুসারে সংঘরাজ ও উপসংঘরাজসহ বহু ভিক্ষুর সমাগমে উৎসর্গ কার্য সমাপন করা হয়। এখানে ঊল্লেখ্য যে, এই ঐতিহাসিক স্থপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সাংঘিক ব্যক্তিত্ব ড. ধর্মকীর্তি মহাথের মহোদয়ও অবদান রয়েছে জানা যায়। আরো বলা যায় উক্ত হাঞ্চারঘোনা পুন:নির্মাণে মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের আবাসিক ভিক্ষুসংঘ অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। পালাক্রমে ভিক্ষুরা রাতে সেখানে অবস্থান করতেন। দুইজন করে থাকা হত। সেই দিনগুলির স্বাক্ষী আমি স্বয়ং। একরাতে বিষণ তুফান শুরু হলে গুরুভন্তে আমাকে ডেকে ও জ্যোতি:উত্তম ভিক্ষুকে ডেকে আদেশ দিলেন রাত একটায় হাঞ্চারঘোন যেতে। যেখানে দিনের বেলায় মানুষ যেতে ভয় পায়। সেখানে আমরা দুইজন ছোট ভিক্ষু গুরুভন্তের আর্শিবাদ নিয়ে হাঞ্চারঘোনা গিয়ে অপর দুই ভিক্ষু ও নির্মাণ সামগ্রী রক্ষা করি। বলতে গলে অনেক কথা যাই হোক আমার পরম গুরু ভন্তের চেষ্টা ও ইচ্ছা না থাকলে এখানো সেই পবিত্র হাঞ্চারঘোন পুন:প্রতিষ্ঠিত হত না। শ্রদ্ধেয় ভন্তের অবদান চিরদিন স্মরণ করবে।
বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত : সুদীর্ঘকাল শাসন সদ্ধর্মের কল্যাণে অবদান রাখার জন্য ২০১৩ সালে ‘বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা’ শ্রদ্ধেয় ভন্তেকে ‘শাসনস্তম্ভ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। প্রকৃতপক্ষে কোন একটি কাঠামো স্তম্ভের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে। এতদঞ্চলে সদ্ধর্ম এখনও সমুজ্জল হয়ে আছে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের মতো প্রব্রজ্জিত প্রাজ্ঞ সংঘমনীষাগণ আছেন বলেই, যাঁরা তাঁদের সম্পূর্ণ জীবনটাই সদ্ধর্ম-সমাজের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থেই সদ্ধর্ম শাসনের জন্য ভন্তের যে অবদান, এই উপাধি উনার কর্মপরিধির যথার্থ মূল্যায়ন। ২০১৫ সালে প্রব্রজ্জিত জীবনের পরম প্রাপ্তি, বড় আরাধ্য উপসংঘরাজ উপাধি লাভ করেন। এই দুর্লভ এবং দুষ্প্রাপ্য উপাধি সকল ভিক্ষু অর্জন করতে পারেন না। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে, অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে, সদ্ধর্মের জন্য অনেক অবদানের ফলে এই কাক্সিক্ষত উপাধি অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা তেমনই দুষ্প্রাপ্য পদবিতে ভূষিত করলেন ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়কে। এই পরম প্রাপ্তিতে মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর পরিচালনা কমিটি কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানে ভন্তেকে বিপুলভাবে অভিনন্দিত করেন।
আর্ন্তজাতিক পরিমÐলে বিচরণ : স¤্রাট অশোকই প্রথম সদ্ধর্মকে ভারতীয় এই উপমহাদেশের গÐি পেরিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দিকে দিকে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আজকের এই পৃথিবীতে এমন দেশ খুব কমই পাওয়া যাবে যেখানে বৌদ্ধদর্শনের ছোঁয়া লাগেনি। সদ্ধর্মের ধর্মচক্র এগিয়ে যাচ্ছে সগৌরবে। আইনস্টাইন বলেছেন- কোন ধর্ম যদি আধুনিক বিশ্বের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়, তা হচ্ছে বৌদ্ধধর্ম। তাই হয়তো আধুনিক এ উন্নত বিশ্বে তা দ্রæতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। তেমনই একটি দেশ হলো সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পাদপীঠ ‘ফ্রান্স’। ফ্রান্সে অবস্থিত ‘কোশল্যায়ন বিদর্শন ভাবনা সেন্টার’ সদ্ধর্মের প্রচার প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। ২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানের ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভন্তেকে আমন্ত্রণ এবং সম্বর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি তিনি সুইজারল্যাÐ, জার্মানী ও জেনেভার দর্শনীয় স্থানগুলোও পরিদর্শন করেন। ২০১৮ সালে অষ্ট্রেলিয়া বৌদ্ধদের আমন্ত্রণে অষ্ট্রেলিয়া গমন করেন। বহু কঠিন চীবর দান ও বিভিন্ন দানানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কওে সদ্ধর্ম প্রচার করেন। দীর্ঘ দুইমান অষ্ট্রেলিয়া ভ্রমণকালে তিনি বিভিন্ন বিহার ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্মন করেন। প্রকৃত সত্য হলো সদ্ধর্মের এই সুর্য সন্তান প্রতিনিয়ত জ্ঞানালো বিতরণ করে চলেছেন। দিক নির্দেশনা দিয়ে উদ্দীপ্ত করে চলেছেন শাসন সদ্ধর্ম- সমাজের কল্যাণে সদ্ধর্মানুরাগীদের। অনাগত দিনে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের জীবন সকলের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ কথা দৃঢ়তার সাথে বলা যেতে পারে।
চারিত্রিক গুণাবলি: শ্রদ্ধেয় গুরুভন্তে ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলে দেখা যায়- তিনি খুবই শান্ত স্বভাবের মৃদুভাষী, সদাহাস্য, স্পষ্টভাষী এবং দৃঢ়চেতা একজন সংঘ মনীষা। যেকোন মানুষকে অতি অল্প সময়ে আপন করে নেওয়ার এক অদ্ভূত সম্মোহনী শক্তি তিনি নিজের ভেতর সংরক্ষণ করেন। রাগান্বিতচিত্তে, উচ্চস্বরে কথা বলতে কখনো শ্রদ্ধেয় ভন্তেকে দেখিনি। তাঁর অকাট্য যুক্তির কাছে যে কোন কুযুক্তি মাথা নত করতে বাধ্য হয়। বিবেকের বিবেচনায়, শাসন সদ্ধর্মের শিক্ষায় যা তিনি সত্য বলে মনে করেন, সেই সত্যে তিনি সর্বদা অটল থাকেন। নির্মোহ এবং উদারতা চরিত্রের অলংকার স্বরুপ। সর্বোপরি বিনয়ের পরিহানী ঘটে তেমন যে কোন পদক্ষেপ তিনি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন মনে-প্রাণে।
ভিক্ষু জীবনের পবিত্র বর্ষাবাস যাপন : একটি সাংঘিক জীবন অৎ¯্র পুণ্য প্রপাতের বহমান ধারা। একজন সংঘ পুরুষ সুবিনীত জীবনচর্চার একটি গৈরিক জীবনবিন্যাস বহু জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্যপাদ উদ্ভাবন। উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের প্রব্রজ্জিত জীবনের জ্যেষ্ঠত্য নিয়ে সংক্ষেপে আলোজনা করা হলো। একজন ভিক্ষুর জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হয় ভিক্ষুত্ব বরণ ও বর্ষাবাস এর মাধ্যমে। তথাগত বুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী যখন কোন ভিক্ষু বর্ষাকালীন তিন মাস কোন বিহারে অবস্থান করেন তখন তাকে একটি বর্সাবাস হিসেবে গন্য করা হয়। ভদন্ত উপ সংঘরাজ ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের প্রব্রজ্জিত জীবন থেকে জানা যায় তিনি ইতোমধ্যে ৬৬ বর্ষাবাস অতিক্রম করেছেন। এটা সহজ কথা নয়। তিনি এই ৬৬ টি বর্ষাবাস যে সব বিহারে অবস্থান করেছিলেন, তা এখানে লিপিবদ্ধ কার হলো। তিনি তাঁর ভিক্ষু জীবনের প্রথম ৪ বর্ষাবাস বিনাজুরী শ্মশান বিহারে অবস্থান করেন। পরবর্তী ৫ বর্ষাবাস তিনি বাগোয়ান ফরাচিং বিহারে অবস্থান করেন। এর পরবর্তী ৫ বর্ষাবাস তিনি প্রতিরূপ দেশ মায়ানমার অতিবাহিত করেন। মায়ানমার থেকে এসে পুনরায় বাগোয়ান ফরাচিং বিহারে অবস্থান করছেন। ভন্তের ভিক্ষু জীবনের অনেকখানি জুড়ে আছে রাউজান বিমলানন্দ বিহার। এই বিহারে ভন্তে সুদীর্ঘ প্রায় দুই যুগ অবস্থান করেন। এখানে তিনি ২১ বর্ষবাস কাটিয়েছেন। অতপর তিনি ২ বর্ষাবাস গহিরা শান্তিময় বিহারে অবস্থান করেন। মহানন্দ সংঘরাজ বিহার এর দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা তথা সদ্ধর্মপ্রাণ মহামুনি গ্রামবাসী নিজেদেরকে ধন্য মনে করে এই জন্য যে, মহান এই প্রব্রজ্জিত প্রাজ্ঞ সংঘমনীষা ইতোমধ্যে এই বিহারে ২৮ বর্ষাবাস অতিক্রান্ত করেছেন। এই বিহার, এই গ্রামসহ এতদঞ্চলের সমাজ-সদ্ধর্মের সমৃদ্ধির জন্য শ্রদ্ধেয় গুরু ভন্তের অবদান কৃতজ্ঞা সহকারে স্মরন করেন।
শিষ্য গঠন : যিনি আমার পথ প্রদর্শক, যিনি আমায় অশেষ জ্ঞান দান করেছেন, সেই মহান ধর্মগুরুকে ভক্তি প্রণতি যুক্ত শ্রদ্ধা ও বন্দনা করছি। বিনয়শীল থেরবাদ মূল আদর্শের অন্যতম কর্ণধার ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির আমাদের গর্বিত এবং বরেণ্য সাংঘিক পুরোধা। আলোকিত উত্তরাধিকারী বির্নিমাণের ক্ষেত্রে শাসনস্তম্ভ ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় অবদান সর্বজনবিদিত। গুরুভন্তে উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় অনেক শাসন দরদী শিষ্যমÐলী সৃষ্টি করেছেন। যাঁরা ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে সদ্ধর্ম প্রচারে ব্রতি হয়েছেন, অনেকে গঢ়ে তুলেছেন বিহার, আশ্রম, ধ্যানকেন্দ্র ইত্যাদি। শিষ্যদের নাম ক্রমানুসারে নাম লিপিবদ্ধ করা হলো- ভদন্ত শান্তিজ্যোতি মহাথের এম, এ (প্রয়াত), ড. শরণংকর থের (প্রয়াত), ভদন্ত শীলজ্যোতি থের (প্রয়াত), ড. জিনপ্রিয় মহাথের, পরিচালক- ধর্মপ্রিয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার মিশন, কলকাতা। ড. এফ দীপঙ্কর মহাথের, ধুতাঙ্গ সাধক, বান্দরবান। ভদন্ত উপতিষ্য মহাথের, ভদন্ত সুশেধপ্রিয় থের, ভদন্ত সুমনোপ্রিয় থের, ভদন্ত রাহুলানন্দ থের এমএ, ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার থের, ভদন্ত বোধিরতœ থের, এমফিল গবেষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ভদন্ত প্রজ্ঞাপ্রিয় থের, ভদন্ত দেবপ্রিয় ভিক্ষু, ভদন্ত নাগসেন থের, ভদন্ত অর্পনজ্যোতি ভিক্ষু, ভদন্ত সত্যজিৎ ভিক্ষু, ভদন্ত জ্যোতিউত্তম ভিক্ষু, ভদন্ত প্রিয়তিষ্য ভিক্ষু, ভদন্ত মহানাম ভিক্ষু অন্যতম। গুরুভন্তেকে দেখেছি উনি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতেন। নিজে বড় ডিগ্রী না নিতে পারলেও সকল শিষ্যদের বিনয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য বলতেন। যাঁর প্রমান গুরুভন্তের তিন শিষ্য সর্বোচ্চ ডিগ্রী পি এইচ ডি নিয়েছেন। আমাকেও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন উচ্চতর ডিগ্রী নিতে।
প্রাজ্ঞ পাঠকগণ আমি কর্মযোগী পরম পূজনীয় ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের বিচিত্র সাংঘিক জীবন মহিমার সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর বিভিন্ন অবস্থানের প্রেক্ষাপট প্রাসঙ্গিকক্রমে চিত্রিত করলাম আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে। এখন আমি নিবন্ধের শেষপ্রান্তে বলতে চাই উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় বর্তমান সময়ে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে যেই কয়জন আদর্শমÐিত সংঘপুরুষ দেদীপ্যমান হয়ে রয়েছেন তাঁদের মধ্যে মাননীয় উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয় অনন্য। তিনি কখনো প্রাপ্তির উচ্ছাসে, খ্যাতির মহিমায় আপ্লুত হয়ে সাংঘিক জীবন বৈশিষ্ট্যকে ¤øান করেননি। সত্য সুন্দর ও বিনয়ধারার প্রশ্নে তিনি চিরদিন জাগ্রত ছিলেন। পরিষেশে আশাবাদ ব্যক্ত করছি আগামী দিনের তরুণ সংঘ প্রজন্ম সব্যসাচী সংঘ মনীষা ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের অনবদ্য সাংঘিক মহিমা ধারণ করে ভবিষ্যতে থেরবাদী মূলধারার আদর্শের ধ্বজাকে চিরকাল সগৌরবে লালন ও পালন করবেন।
তথ্যসংগ্রহ : উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের ৮৪তম হীরক জয়ন্তী স্মারক গ্রন্থ “প্রজ্ঞা”।

 

লেখক : ভদন্ত বোধিরত্ন ভিক্ষু
এম.ফিল গবেষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
আবাসিক, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার, ঢাকা।

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!