রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়
বিশ্বমানব বুদ্ধ গুণে মুগ্ধ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

বিশ্বমানব বুদ্ধ গুণে মুগ্ধ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ


আজ ২৫ বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মদিন। ১৫৯ বছরে এ এক অন্য ২৫শে বৈশাখ।

পরম কৃতজ্ঞতা ও পূণ্যদানে বাংলা ভাষার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, সংগীতস্রষ্টা, নট ও নাট্যকার, চিত্রকর, প্রাবন্ধিক, কণ্ঠশিল্পী, দার্শনিক এবং যাঁর হাত ধরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হয় সে কবিশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করছি। সেসাথে এ বিশেষ দিনে কবিগুরুর রচিত “বুদ্ধদেব” গ্রন্থ অবলম্বনে মহাকারুণিক বুদ্ধের প্রতি বিশ্বকবির মুগ্ধতার কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরার প্রয়াস ব্যক্ত করছি।

বিশ্বমানব বুদ্ধ গুণে মুগ্ধ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বুদ্ধদেব গ্রন্থ হতে পাঠ)
-প্রজ্ঞাশ্রী ভিক্খু

বুদ্ধদেব নামের গ্রন্থটি মূলত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন সময়ে বুদ্ধকে নিয়ে লেখার সংকলন, বইটির প্রথম লাইন হচ্ছে- আমি যাকে অন্তরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলব্ধি করি আজ এই বৈশাখী পূর্ণিমায় তার জন্মোৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বমানবের অনন্য উচ্চতায় আরোহণকারী গৌতম বুদ্ধের বন্দনায় মেতে উঠে আরো লিখেছেন- তিনি তার সব-কিছু ত্যাগ করেছিলেন দীনতম মূর্খতম মানুষেরও জন্য। তার সেই তপস্যার মধ্যে ছিল নির্বিচারে সকল দেশের সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা।

এভাবে বিশ্বকবি তার ঐন্দ্রজালিক ভাষায় উচ্ছসিত উপমা আর মুগ্ধতার জাল বুনেই থেমে যান নি বরং রীতিমত যুক্তির কষ্টিপাথর দিয়ে যাচাই করে দেখিয়েছেন কেন বুদ্ধকে বিশ্বমানব বলা হয় এবং কেন তাঁর বাণী সর্বজনগ্রাহ্য হবে। বিশেষ করে কবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন বারংবার সেই ভেদাভেদমুক্ত সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার প্রচলনের চেষ্টার, উল্লেখ করেছেন বুদ্ধের আবির্ভাবে- সত্যের বন্যায় বর্ণের বেড়া দিলে ভাসিয়ে।

বিশ্বের সব মানুষ যে সমান, বহু যুগ ধরে চলতে থাকা জাত-পাত, ভেদাভেদ যে কেবল শোষণকারী একটা সমাজের কুৎসিত চক্রান্ত তার বিরুদ্ধেই যেন মহাস্ত্র হয়ে এল বুদ্ধের দর্শন। বাসেট্ঠ সূত্রে বুদ্ধ দেশনা করেছেন- “জাতি হিসেবে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রের পদচিহ্ন একই রূপ। হাতি, ঘোড়া, বাঘ এরূপ চতুষ্পদ প্রাণীদের মতো মানুষে মানুষে দৈহিক গঠনে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না”।

বুদ্ধের সম্পর্কে কবি গুরু আরো লিখেছেন- এত বড় রাজা কি জগতে আর কোনোদিন দেখা দিয়েছে! বর্ণে বর্ণে, জাতিতে জাতিতে, অপবিত্র ভেদবুদ্ধির নিষ্ঠুর মূঢ়তা ধর্মের নামে আজ রক্তে পঙ্কিল করে তুলেছে এই ধরাতল, পরস্পর হিংসার চেয়ে সাংঘাতিক পরস্পর ঘৃণার মানুষ এখানে পদে পদে অপমানিত। সর্বজীবে মৈত্রীকে যিনি মুক্তির পথ বলে ঘোষণা করেছিলেন সেই তারই বাণীকে আজ উৎকণ্ঠিত হয়ে কামনা করি এই ভাতৃ বিদ্বেষ কলুষিত হতভাগ্য দেশে।

পরিশিষ্টঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোঁয়া মানেই অনন্য কিছু। তাই তাঁর রচিত বুদ্ধদেব গ্রন্থটি পড়ে শুধু মুগ্ধ হয়েছি তা নয় বারংবার বুদ্ধ গুণে প্রতি মূহুর্তে জেগে উঠেছে শ্রদ্ধা-ভক্তি। বুদ্ধদেব গ্রন্থটি তাই আমার ভালো লাগার অন্যতম একটি গ্রন্থ হয়ে আছে। কিন্তু আমি গ্রন্থটির নাম নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছি; কেননা, যে বুদ্ধ ত্রিলোকগুরু তাঁকে বুদ্ধদেব বলা উচিত নয়।

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!