শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বিহার সম্মার্জ্জনের ফল (বিহার পরিষ্কার করার ফল)

বিহার সম্মার্জ্জনের ফল (বিহার পরিষ্কার করার ফল)


-‌জ্ঞান ছদক ভিক্ষু

বিহার, বিহারাঙ্গন, চৈত্যাঙ্গন ও বোধি ইত্যাদি সম্মার্জ্জনের ফল বর্ননা প্রসঙ্গে বিনয়ে “পরিবার” পালি গ্রন্থে এইরুপ বর্ণিত হইয়াছে “পঞ্চানিসংসা সম্মজ্জনিয়া-সকচিত্তং পসীদতি, পরচিত্তং পসীদতি, দেবতা অত্তমনা হোন্তি, পাসাদিকসংবত্তনিকং পুঞঞং উপচিনাতি, কাযস্স ভেদা পরম্মারণা সুগতিং সগ্গং লোকং উপ্পজ্জতী,তি” সম্মার্জ্জনী (ঝাড়ু দিলে) করিলে, তাহা দেখিয়া নিজের চিত্ত প্রসন্ন হয়, অপরের চিত্ত প্রসন্ন হয়, দেবতারা আনন্দিত হয়, প্রসন্নজনিত পূণ্য সঞ্চিত হয় ও মরণের পর সুগতি স্বর্গলোকে জন্ম হয়৷ সম্মার্জ্জনের এই পাচঁটি ফল৷

উক্ত পাচঁটি ফলের বোধ সৌকার্য্যাথ ও সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য উপমা স্বরুপ পাঁচটা আখ্যানের অবতারণা করা হইতেছেঃ

একদিন কালন্ধকালবাসী ফুস্সদেব নামক জনৈক স্থবির চৈত্যাঙ্গন সম্মার্জ্জন করিয়া উত্তরাসঙ্গ একাংশ করত পুষ্প আন্তরণের ন্যায়, সিন্ধুবালুকা সমাকীর্ণ চৈত্যাঙ্গন অবলোকন করিতেছিলেন৷ দেখিতে দেখিতে বুদ্ধারম্মণে প্রীতি উৎপাদন করিয়া দাড়াইলেন৷ তখন মার কালবর্ণ বন্য বানরের বেশ ধারণ পূর্ব্বক চৈত্যাঙ্গনে গোময় বিকীর্ণ করত চলিয়া গেল৷ স্থবির সেই প্রীতির পরিহাণী হেতু অরহত্ব ফল লাভ করিতে না পারিয়া পুনঃ সম্মার্জ্জনান্তে বিহারে ফিরিয়া গেলেন৷ দ্বিতীয় দিনও মার বৃদ্ধ গরুর বেশে আসিয়া চৈত্যাঙ্গন কলুষিত করিয়া গিয়াছিল৷ তৃতীয়বার বঙ্কপদ মানুষের বেশে আসিয়া, পদ ঘর্ষণের দ্বারা চৈত্যাঙ্গন ক্লিষ্ট করিয়া চলিয়া যাইতেছিল, তখন স্থবির ভাবিলেন “ইহার চতুর্দ্দিকে এক যোজন প্রমাণ স্থানের গ্রামের মধ্যে এরুপ জঘন্য পুরুষ নাই৷ এইটি বোধ হয় মার হইবে৷” এই ভাবিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন “তুমি কি মার?” মার ইত্মগোপন না করিয়া উত্তর দিল, “হ্যাঁ প্রভু আমি মার৷ “তারপর স্থবির বলিলেন তুমি তথাগত বুদ্ধরুপ দেখিয়াছ কি” “হা, দেখিয়াছি!” “মারেরা অতি প্রভাব সম্পন্ন রে মার, তুমি বুদ্ধ ভগবানের রূপের ন্যায় রূপ ধারণ কর৷” ভদন্ত, তাদৃশ রূপ ধারণ করিতে পারিব না৷ অপিচ যথাযথ না পারিলেও তাদৃশ কিঞ্চিৎ পরিমাণ পারিব বৈ কি৷ এই বলিয়া স্বীয় মার রূপ পরিত্যাগ করত বুদ্ধ-রূপ ধারণ করিয়া দাঁড়াইলে পর স্থবির মারের দিকে চাহিয়া চিন্তা করিলেন— এই মার রাগ, দ্বেষ ও মোহযুক্ত হইয়াও বুদ্ধ রূপ ধারণ করিয়াছে বলিয়া অতিশয় শোভনীয় হইয়াছে৷ অহো! বীতরাগ-বীতদ্বেষ ও বীতমোহ বুদ্ধ কতই শোভনীয় ছিলেন! এই প্রকারে বুদ্ধারম্মণে প্রীতি উৎপাদন করত বিদর্শন ভাবনা করিয়া অরহত্ব ফল লাভ প্রাপ্ত হইলেন৷ তখন মার বলিলেন—ভদন্ত, আপনি আমাকে প্রবঞ্চনা করিলেন৷” “রে মার তোমাকে প্রবঞ্চনা করিবার আমার কিই আছে৷” এই বলিয়া স্থবির চলিয়া গেলেন৷

লাকন্দর নামক বিহারেও দত্ত নামক জনৈক তরুন ভিক্ষু চৈত্যাঙ্গন সম্মার্জ্জন করিয়া তাহা দেখিতেছিলেন৷ দেখিতে দেখিতে অবদাত কৃৎস্নভাবনা ও অষ্ট সমাপত্তি লাভ করত বিদর্শন ভাবনানুসারে স্রোতাপত্তি সকৃদাগামী ফল পর্য্যন্ত প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন৷ ইহা হইল স্বীয় চিত্ত প্রসন্নতার ফল৷

পরচিত্ত প্রসন্নতা সম্বন্ধে ও বলা হইয়াছে যে তিষ্য নামক জনৈক ভিক্ষু জম্বুকালে নামক বিহারের চৈত্যাঙ্গন সম্মার্জ্জন করিয়া সম্মার্জ্জিত ময়লা ফেলিবার ভাজন হাতে লইয়া দাঁড়াইয়াছিলেন৷ সেই সময় তিষ্যদত্ত স্থবির নৌকা হইতে অবরতণ করত চৈত্যাঙ্গনের উপর দিয়া যাইবার সময় চিন্তা করিলেন— বোধ হয় এই চৈত্যাঙ্গন কোন ভাবিত চিত্ত ভিক্ষু সম্মার্জ্জন করিয়াছেন এই মনে করিয়া তিষ্য ভিক্ষুকে হাজারটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন৷ তিনিও তাহার উত্তর প্রদান করিলেন৷

অপর এক বিহারে ও জনৈক স্থবির চৈত্যাঙ্গন সম্মার্জ্জন করিয়া ব্রত সম্পাদন করিয়াছিলেন৷ যবন দেশ হইতে চারিজন চৈত্য বন্দনাকারী স্থবির আসিয়া ভিতরে প্রবেশ করিবার পূর্ব্বে দ্বারদেশে দাঁড়াইয়া সম্মার্জ্জনের পারিপাট্য দেখিতে লাগিলেন৷ দেখিতে দেখিতে প্রসন্নচিত্তে ভাবনায় মনোনিবেশ করত একজন ষাটকল্প একজন ষোড়শকল্প, একজন বিশকল্প ও আরেকজন ত্রিংশকল্প অনুসরণের উপযোগী, “পূর্ব্ব নিবাস-স্মৃতি-জ্ঞান” লাভ করিলেন৷
দেবতাদিগের সন্তুষ্টি সম্বন্ধে এইরূপ উক্ত হইয়াছে- এক বিহারবাসী জনৈক ভিক্ষু চৈত্যাঙ্গন ও বোধি অঙ্গন সম্মার্জ্জন করিয়া, স্নান করিতে গিয়াছিলেন৷ দেবতা “এই বিহার নির্ম্মাণ করা হইয়াছে পর্য্যন্ত, এইরূপ সম্মার্জ্জন ব্রত সম্পাদনকারী ভিক্ষু অবস্থান করেন নাই৷” এই প্রকারে গুন মুগ্ধ হইয়া পুষ্পমঞ্জরী হন্তেস্নানতীর্থে দাঁড়াইয়াছিলেন৷ ভিক্ষু আসিয়া “তুমি কোন গ্রামবাসী” বলিয়া জিজ্ঞাসা করিলে, ভদন্ত, আমি এইখানেই বাস করি কিন্তু এই বিহার নির্ন্মানকাল পর্য্যন্ত আপনার ন্যায় ব্রত সম্পন্ন ভিক্ষু এখানে করেন নাই৷ আমি আপনার ব্রতগুনে মুগ্ধ হইয়া আপনার সম্বর্দ্ধনার জন্য পুষ্পহস্তে দাঁড়াইয়াছি৷

জনৈক আমাত্য পুত্র ও অভয় স্থবির সম্বন্ধে এরুপ একটা দ্বন্ধের সৃষ্টি হইয়াছিলেন যে- কি আমাত্য- পুত্র সুন্দর, না অভয় স্থবির সুন্দর? তারপর তাহাদের সিদ্ধান্ত হইল যে— তাহারা উভয়কে একস্থানে দাঁড় করাইয়া সৌন্দর্য্যের তারতম্য করিবেন ৷ আমাত্য পুত্রকে তাহার জ্ঞাতিরা সাজাইয়া লইয়া মহা চৈত্য বন্দনার জন্য চৈত্যর পশ্চিম তোরণ দিয়া অঙ্গনে প্রবেশ করিলেন৷ অভয় স্থবিরের মাতাও সুন্দর চীবর তৈয়ার করিয়া চীবর সহ সংবাদ পাঠাইলেন যে,— “আমার পাত্র চুল কাটিয়া এই চীবর পরিধান করত ভিক্ষুসংঘ পরিবৃত হইয়া মহাচৈত্য বন্দনাথ গমন করুন৷” স্থবিরও মাতার সংবাদ অনুযায়ী চৈত্য বন্দনার জন্য দক্ষিন তোরণ দিয়া চৈত্যাঙ্গনে প্রবেশ করিলেন৷ যাইয়া আমাত্য- পুত্রের সঙ্গে একত্রিত হওত বলিলেন “ওহে, তুমি পূর্ব্বে বৃদ্ধ স্থবিরের সম্মার্জ্জিত স্থানে ময়লা করিয়া এখন আমার সঙ্গে সৌন্দর্য্যের সাদৃশ্য করিতে চাও কি?

অতীতকালে এই অভয় স্থবির বৃদ্ধ স্থবির ছিলেন৷ আমাত্য- পুত্র ছিল উপাসক বৃদ্ধ স্থবির কাচর করিয়া যাইত৷ ইহা তাহাদের পূর্ব্ব কর্ম্ম৷ ইহা হইল প্রসন্নতাজনক পূণ্য৷৷

সত্যকে জানুন, মিথ্যাকে দূর করুন৷ পড়তে উৎসাহিত হোন, লাইক,কমেন্ট, শেয়ার করে অন্যেকে পড়ার সুযোগ করে দিন এতে আপনার এবং সবার পূণ্যে ও মঙ্গল হবে৷৷

জগতে সকল প্রাণী সুখী হোক,,
সাধু সাধু সাধু

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!