শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়
শাকপুরার শিক্ষিকা জ্যোতির্ময়ী বড়ুয়া আর নেই

শাকপুরার শিক্ষিকা জ্যোতির্ময়ী বড়ুয়া আর নেই


রাজীব বড়ুয়াঃ বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা গ্রামের পূণ্যশীলা উপাসিকা, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, শিক্ষিকা জ্যোতির্ময়ী বড়ুয়া (৮৮) আজ শনিবার (১৩অক্টোবর) দুপুর ১.৩০ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

অাগামীকাল ১৪ অক্টোবর ১৮ তারিখ রবিবার শাকপুরায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় অনিত্যসভা অনুষ্টিত হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের ২৬ মার্চ শিক্ষয়িত্রী জ্যোর্তিময়ী বড়ুয়া বোয়ালখালী উপজেলাধীন মধ্যম শাকপুরার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবার নাম ত্রিপুরা চরণ বড়ুয়া এবং মাতা প্রেমদাবালা বড়ুয়া। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সর্ব কনিষ্ট। বড় ভাই প্রয়াত শিক্ষক সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া ও মেঝভাই মহান মুক্তিযোদ্ধে শহীদ শিক্ষক ‍সুমতি রঞ্জন বড়ুয়া। মেঝ ভাই শিক্ষক ‍সুমতি রঞ্জন বড়ুয়ার পূণ সহযোগিতায় তিনি পুনঃপাঠে মনোনিবেশ করতঃ এস,এস,সি পরীক্ষায় উত্তীণ হন। পিটি পাশ করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবসর পর্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে তিনি শিক্ষকতাব্রতী হন। তিনি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের পাঠ কার্যে উৎকর্ষতা এবং অন্ধজনে চক্ষুষ্মান করার নিমিত্তে মরনোত্তর দেহ ও চক্ষু যথাক্রমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এবং সন্ধানীকে চুক্তির মাধ্যমে দান করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।

গ্রামে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি সমাজ, সংস্কৃতি, প্রগতিশীল সকল শুভ কাজের সাথে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। পবিত্র শ্মশানে তিনি নিজ অর্থায়নে বসার ছাউনী তৈরী করে দেন। জ্যোতিময়ী বড়ুয়া শাকপুরা গ্রামের আরেক নারী সংগঠক মহিয়সী নারী প্রয়াত মলিনা বড়ুয়াকে নিয়ে শাকপুরা বৌদ্ধ মহিলা সমিতি গঠন করেন। তিনি ছিলেন সভাপতি এবং মলিনা বড়ুয়া ছিলেন সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনে উচ্চ শিক্ষার সহায়ক ছাত্র বৃত্তি প্রদান কল্পে উনার কাকা প্রয়াত সুমঙ্গল মহাস্থবির স্মরণে ২০০৬ সালে এককালীন ৫০,০০০/- টাকা দান করেন। যা কর্মবীর “সুমঙ্গল মহাস্থবির স্মৃতি বৃত্তি” নামে প্রচলিত আছে।

এ কীর্তিময়ী নারীর বহুবিধ অবদানকে চিরঞ্জীব ও অমর করে রাখার মানসে একমাত্র সুযোগ্য কণ্যা আলপনা বড়ুয়া(ঝর্ণা) বাংলাদেশ বুড্ডিষ্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক নবসৃষ্ঠ চিকিৎসাসেবা স্মৃতি তহবিলে ১,০০০০০/- টাকা দান দিয়ে “শিক্ষয়িত্রী জ্যোর্তিময়ী বড়ুয়া-মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়তোষ বড়ুয়া চিকিৎসাসেবা স্মৃতি তহবিল” প্রবর্তন করেন।

উনার দুই সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান ব্যাংকার প্রিয়ব্রত বড়ুয়া দয়াল কিছুদিন পুর্বে প্রয়াত হন। ছোট ছেলে মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়তোষ বড়ুয়া (যিনি ছাত্র ইউনিয়নের সক্রীয় কর্মী ছিলেন) দেশ স্বাধীনের পর পর নিখোঁজ হন। বর্তমানে একমাত্র মেয়ে আলপনা বড়ুয়া(ঝর্ণা)’র বাসায় রোগশয্যা অবস্থায় সার্বক্ষণিক বিছানায় শায়িত অবস্থায়(প্রায় ৫বছর যাবৎ) দিন যাপন করছিলেন।

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!