শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে সম্রাট অশোকের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করছেন আর্শ

বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে সম্রাট অশোকের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করছেন আর্শ


আর্শ আলি বয়স ১৭, সর্বকনিষ্ঠ প্রত্নতত্ত্ববিদ! বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে সম্রাট অশোকের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করছেন আর্শ

৪ বছর বয়স থেকে শুরু। কাঠমান্ডু ঘুরতে গিয়ে বাবা-মায়ের হাত ধরে সে যে সমস্ত মন্দির এবং ঐতিহাসিক সৌধ দেখে, তা সব একটি কাগজে আঁকতে শুরু করে। সে দিন তাঁর অভিভাবকরা বুঝতে পারেন, ইতিহাস এবং প্রাচীন সংস্কৃতির বিষয়ে গভীর আগ্রহ রয়েছে তাঁদের একমাত্র ছেলে আর্শ আলি-র। এখন বয়স ১৭। এর মধ্যেই আর্শ-এ ঝুলিতে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা। মিশর থেকে মহেঞ্জোদারোর মাটি গায়ে মেখে ফেলেছেন। ভারত তো বটেই, সম্ভবত বিশ্বেরও সর্বকনিষ্ঠ প্রত্নতত্ত্ববিদ তিনি।

বর্তমানে মিশরে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে সম্রাট অশোকের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করছেন আর্শ। তিনি বলেন, ‘মৌর্য যুগে সম্রাট অশোকের নেতৃত্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার হয়েছিল। আমরা সকলেই এটা জানি। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে তিনি পশ্চিমের বিভিন্ন দেশেও বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারের চেষ্টা করেন। তার মধ্যে মিশরও ছিল। সাঁচি স্তূপেও মিশরের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের সম্পর্কের কথা উল্লেখ রয়েছে।’

৭ বছর বয়সে মিশরের মৃত্যুর দেবতা আনুবিস-এর ছবি দেখে মিশরীয় প্রাচীন সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন আর্শ। তার পর থেকে শুরু হয় তাঁর ক্রিপ্টেগ্রাফির চর্চা। যাঁরা জানেন না তাঁদের জন্য বলা ভালো, ক্রিপ্টোগ্রাফি হল প্রাচীন বিভিন্ন ভাষায় লেখা নানা ধাঁধার সমাধান করার এক কৌশল। যেমন মিশরের হিয়েরোগ্লিফিক্স ভাষায় বিভিন্ন ধাঁধা সমাধান করে এবং বিভিন্ন লেখা পড়ে সে সময় সম্পর্কে নানা তথ্য মিলেছে।
এর মধ্যেই ১০টি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছেন আর্শ। এ ছাড়া ১৮টি উপভাষায়ও যথেষ্ট দখল রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে খারোস্থি এবং উগারিটিক এখন কোথাও ব্যবহৃত হয় না। ছোটবেলা থেকে মমি নিয়ে অসীম আগ্রহ ছিল আর্শের। মৃত মাছের মমি তৈরি করে তা পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রোজেক্টে একলাই কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আসলে কৌতুহলই আমায় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। তবে মাঝে মধ্যে বিশেষজ্ঞদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। আমাদের সকলেরই বিশেষজ্ঞের পরামর্শের দরকার হয়।’

এ সব কিছুর জন্যই তিনি তাঁর অভিভাবককে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট আমার বাবা-মা। তাঁর আমার পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছেন, আমার ইচ্ছেগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই আজ আমি এত দূর আসতে পেরেছি।’

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!