রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়
বিশ্বের সবথেকে সুখী মানুষ এবং তার সুখের গোপন সূত্র

বিশ্বের সবথেকে সুখী মানুষ এবং তার সুখের গোপন সূত্র


আপনি কি নিজেকে সুখী মনে করেন? কিভাবে বুঝলেন আপনি সুখী? সুখের মানদণ্ড কি? কিছুদিন ধরেই খুঁজছিলাম পৃথিবীতে সব থেকে সুখী মানুষ কে! ইন্টারনেট একজন ব্যাক্তির সন্ধান দেয়। বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে সব থেকে সুখী মানুষ সে। তার নাম ম্যাথিউ রিকার্ড।
ম্যাথিউ রিকার্ড ৭১ বছর বয়েসী তিব্বতী বৌদ্ধ সন্ন্যাসী। তিনি নেপালে বসবাস করেন কিন্তু তার জন্ম হয়েছিল ফ্রান্স। ফ্রান্সে তিনি আণবিক জেনেটিক্সের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু প্রথাগত কোন পেশায় প্রবেশ না করে সন্ন্যাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়েইয়ের অধ্যাপক রিচার্ড ডেভিডসনের সাথে তিনি দীর্ঘ ১২ বছর মানুষের মস্তিষ্কের সমবেদনা ও ম্যাডিটেশন নিয়ে গবেষণা করেছেন।

গবেষণা চলাকালীন সময়, ম্যাথিউ রিকার্ডের মাথায় ২৫৬টি সেন্সর তাড় লাগানো হয় এবং অধ্যাপক রিচার্ড ডেভিডসন লক্ষ্য করেন যে ম্যাথিউ যখন ম্যাডিটেশন করেন তখন তার মস্তিষ্ক থেকে গামা তরঙ্গ (চেতনা, মনোযোগ, শেখার এবং মেমরি সম্পর্কিত) উৎপন্ন হয়। নিউরোসাইন্সের ইতিহাসে আগে কখনো এরকমটা দেখা যায়নি। আরো লক্ষ্য করা যায় যে ম্যাথিউর মস্তিষ্কের বাম প্রিফ্রন্টাল করটেক্স তার ডান পার্শ্বকদার এর তুলনায় বেশি সক্রিয়। যেকারণে তার সুখ ধারণ ক্ষমতা বেশি এবং বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তা থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখতে পারেন। মেডিকেল সাইন্সের ইতিহাসে এই ঘটনা বিরল।

এই কারণে ম্যাথিউ রিকার্ড নিজেকে সুখী মানুষ দাবি করেন। তিনি পুরো একটি দিন ম্যাডিটেশন করতে পারেন। মাঝে মাঝে এক দিনেরও বেশি সময় কোন রকম বিরক্তি ছাড়াই ম্যাডিটেশন করতে পারেন। তার কাছে সুখী মানুষ হওয়ার গোপন সূত্র জানতে চাইলে তিনি বলেন মাত্র তিনটি কাজ করতে পারলে সুখী মানুষ হওয়া যায়।

নিজেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এর কেন্দ্রে স্থাপন করা উচিত নয়
মানুষের প্রতি প্রেম (বা পরমার্থই) হলো সুখের চাবি। তিনি বলেন সবসময় নিজের সম্পর্কে চিন্তা করা, কিভাবে নিজের ভালো করা যায় এই চিন্তা করা অনেক পীড়াদায়ক ও ক্লান্তিকর। এতে কোন সুখ নেই। এই স্বার্থপরতার চর্চা মানুষকে সুখী করতে পারে না কখনো। স্বার্থপরতার চর্চা বন্ধ করলেই আপনি সুখী হতে পারবে। খুব সহজ ব্যাপার, কঠিন কিছু না।

ম্যাথিউ বলেছেন, ‌‘এটি একটি নৈতিক ভিত্তি। আপনি শুধু নিজেকে নিয়ে সারাদিন চিন্তা করলে আপনার দমবন্ধ হয়ে আসবে একসময়। স্বার্থপরতা ও দুর্দশাগ্রস্থতার কারণে আপনি একসময় পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন। এবং নিজের সম্ভাবনাময় দিকগুলো হারিয়ে ফেলবেন। আপনি যদি সুখী হতে চান, আপনার দয়ালু হতে চেষ্টা করা উচিত। যেটা শুধু আপনাকে ভালো বোধ করতে সাহায্য করবে না অন্যকেও আপনার মত করে তুলবে। আপনার মন যদি দয়াশীলতা,আবেগ ও সংহতি দ্বারা পূর্ণ থাকে তবে আপনার মনের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, আপনাকে সমৃদ্ধশালী করে তুলে। তবেই আপনি জীবনে সুখী হতে পারবেন।’

মনকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন আপনি ম্যারাথন দৌড়ে নেমেছেন
রিকার্ডের মতে, প্রত্যেকেরই মন খুব পবিত্র স্থান। তিনি বলেন সবার ভিতরেই ঈশ্বর বাস করে। তাই এই মনকে পবিত্র রাখতে হবে।

এখন কেন ম্যারাথন দৌড় এর প্রস্তুতি? কারণ, একটি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় কিলোমিটার / মাইল দৌড়ানোর প্রশিক্ষণ নিতে হয় একইভাবে, যাদের সুখী হওয়ার প্রয়াস রয়েছে তাদের প্রথমে তাদের মনকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। রিকার্ড প্রশিক্ষণকে ধ্যান হিসাবে মনোনীত করেছেন।

দিনে ১৫ মিনিট সময় সুখ নিয়ে ভাবুন
সাধারণত, আমরা ভালোবাসা এবং সুখ অনুভব করি, এবং তারপর প্রেম ও সুখ সম্পর্কে ভুলে গিয়ে অন্য কিছু নিয়ে ভাবনা শুরু করি। এই অনুশীলনের পরিবর্তে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিত যাতে আমাদের মন বিভ্রান্ত হয়ে না যায় বিক্ষিপ্ত হয়ে না যায় তার উপর। আমাদের প্রতিদিন একটানা ১৫ মিনিটের জন্য ইতিবাচক আবেগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত। অর্থাৎ যোগব্যায়াম করা উচিত। তাহলে আমাদের মন একীভুত থাকবে। বাইরের অন্য কোন চিন্তা আমাদের মনে আসবে না। আর যে মনে কোন উদ্বেক নেই সেই মন সুখী। এভাবে যদি আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি তাহলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি আমরা অনুভব করতে পারব। আর ম্যাথিউ রিকার্ডের মত টানা ৫০ বছর যদি কেউ ম্যাডিটেশন করে তাহলে সে হবে পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ।

ম্যাডিটেশন মানুষের মনকে শান্ত রাখে। মানুষের মন শান্ত থাকলে তবেই না নিজেকে সুখী মানুষ বলে মনে হয়!

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!