মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ২০২০ এর তালিকা বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আগামীকাল প্রবারণা পূর্ণিমা, শুক্রবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর: বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা অনোমা সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া আর নেই প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ধারন হল বিশেষ আলেখ্যানুষ্টান বৌদ্ধ ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাত মেলালো ভারত-শ্রীলঙ্কা রাঙ্গামাটিতে থাইল্যান্ড থেকে আনিত দশটি বিহারে  বুদ্ধমূর্তি বিতরণ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময়
বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি

বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি


চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া: 

বুদ্ধ দর্শনকে আমরা যদি মোটাদাগে বিশ্লেষণ করি, তাহলে সেখানে আমরা মূলত চারটি প্রধান তাত্তি¡ক দিক বা বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। যেমন- এক, কর্মবাদ। দুই, কার্যকারণবাদ। তিন, অনিত্য বা পরিবর্তনবাদ এবং চার, জন্মান্তরবাদ। সংক্ষেপে এসব ব্যখ্যা করলে দাঁড়ায়-
কর্মবাদঃ কর্মবাদ এর মূল কথা হলো যেমন কর্ম তেমন ফল। যে যেমন কাজ বা কর্ম করবে সে তেমন ফল পাবে। ভালো বা কল্যাণকর কাজের জন্য মঙ্গলদায়ক ফল এবং খারাপ বা অকল্যাণকর কাজের জন্য অমঙ্গলদায়ক ফল আসবে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভোগ করবে-প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবেই। এর মাধ্যমে আসলে যে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায় তেমন কাজ করার জন্য ব্যক্তি, সংগঠন, সমাজ, সরকার, রাষ্ট্রকে উপদেশ বা পরামর্শ বা শিক্ষা দেয়া হয়েছে- যেমন ভালো লেখাপড়া করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এখানে বলা সঙ্গত যে, বুদ্ধ দর্শনের কর্মবাদ ইহজাগতিক, পরজাগতিক নয়। কারণ তিনি পরজাগতিক বা অধিবিদ্যক বিষয় নিয়ে বরাবরই অনাগ্রহী ছিলেন। কার্যকারণবাদঃ কার্যকারণবাদ এর মানে হচ্ছে কারণ ছাড়া কেনো কাজ হয় না। প্রত্যেক কাজের পিছনে এক বা একাধিক কারণ নিহিত আছে বা থাকে। আমরা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, জীবন ও জগতে যা ঘটতে দেখি সেসব আসলে কার্যকারণ ঘটনার পরম্পরা বা অনুসঙ্গ। অনিত্য বা পরিবর্তনবাদঃ অনিত্য বা পরিবর্তনবাদের সার কথা হলো স্থায়িত্বশীল বলে জগতে বা মহাবিশ্বে কিছুই নেই। এ মহাবিশ্বের সব কিছুই হচ্ছে নিয়ত পরিবর্তনশীল। এ জগতে আসলে স্থিতিশীল বলে কিছুই নেই। এর মানে তিনি আসলে দুঃখ মুক্তির উপায় অনুসন্ধানের জন্য পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে নিত্য নতুন জ্ঞানানুসন্ধানের মাধ্যমে জাগতিক সমস্যা বুঝার ও সেসব সমাধানে মনোনিবেশ করার উপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। অধিভোতিক বা পরজাগতিক চিন্তায় মশগুল না বাস্তব জগতের দুঃখ মুক্তির
চিন্তায় নিমগ্ন থাকতে উপদেশ দিয়েছেন।
জন্মান্তরবাদঃ জন্মান্তরবাদ এর মানে হচ্ছে জগতের মানবিক কামনা-বাসনার পুনঃ পুনঃ জন্মগ্রহণ বা পুনরুতপাদন। যেমন এক কামনা আরেক কামনা বা একাধিক কামনার সূত্রপাত হয়, যা দুঃখ আনে বা দুঃখের সূত্রপাত ঘটায়। যা ব্যক্তি মানুষকে, ব্যক্তি মানুষ পরিবার, পরিবার সমাজ, সমাজ রাষ্ট্র এভাবে জগতকে দুঃখময় করে তোলে, যাবতীয় জঞ্জাল সৃষ্টি হয়। আর এই যাবতীয় অনৈতিক কামনা-বাসনার নিবৃত্তিই হচ্ছে নির্বাণ। অনেকে অবশ্য বুদ্ধ দর্শনের জন্মান্তরবাদ বলতে অন্যান্য ধর্ম দর্শনের আদলে পূর্ব জন্ম, বর্তমান জন্ম ও পরজন্মকে বুঝিয়ে থাকেন। আসলে, সেটি বুদ্ধের বাস্তববাদী চিন্তা চেতনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। তাই জন্মান্তরবাদ বলতে তিনি আসলে ব্যক্তি মানুষের এক জীবনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে বুঝিয়েছিলেন।

Facebook Comments

শেয়ার করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *





© All rights reserved © 2018 tathagataonline.net
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করার চেষ্ঠা না করে নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করুন
Don`t copy text!